সুপ্রিম কোর্টে রিভিউ পিটিশন দাখিল করল SSC, আইনি পথে হাঁটার প্রস্তুতি যোগ্য চাকরিহারাদেরও

কলকাতা হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খাওয়ার পর অবশেষে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে রিভিউ পিটিশন দাখিল করল স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC)। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পূর্বের আশ্বাস অনুযায়ীই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, চাকরি হারানো যোগ্য প্রার্থীরাও নিজস্ব উদ্যোগে আইনি পথে হাঁটার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে খবর।

জানা গেছে, SSC চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার সম্প্রতি দিল্লি যান এবং আইনজীবীদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন। সেই আলোচনার ভিত্তিতেই গত শনিবার সুপ্রিম কোর্টে কমিশনের পক্ষ থেকে রিভিউ পিটিশন দাখিল করা হয়। এর মাধ্যমে ২০১৬ সালের প্যানেলের ভিত্তিতে হওয়া প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল সংক্রান্ত রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন জানানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত ২২ এপ্রিল কলকাতা হাইকোর্ট এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর নিয়োগ বাতিল করে দিয়েছিল এবং পুরো প্যানেলটিকেই অবৈধ ঘোষণা করেছিল। হাইকোর্টের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রাজ্য সরকার দ্রুত সুপ্রিম কোর্টে গেলেও সেখানেও কোনো স্বস্তি মেলেনি। সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য বা কমিশনের কাছ থেকে ‘যোগ্য’ এবং ‘অযোগ্য’ চাকরিপ্রার্থীদের পৃথক তালিকা না পাওয়ায় কলকাতা হাইকোর্টের রায়কেই বহাল রেখেছিল।

সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পর চাকরি হারানো শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের মধ্যে হতাশা যেমন ছিল, তেমনই যোগ্য প্রার্থীরা তাঁদের নিয়োগ বাতিলের প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু করেন। তাঁদের মূল দাবি ছিল দুটি – প্রথমত, যোগ্য ও অযোগ্য প্রার্থীদের একটি স্পষ্ট তালিকা প্রকাশ করতে হবে এবং দ্বিতীয়ত, প্রত্যেক চাকরিপ্রার্থীর ওএমআর শিট ওয়েবসাইটে আপলোড করতে হবে। এই আবহে SSC গোটা রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রিভিউ পিটিশন দাখিল করল।

অন্যদিকে, এই পরিস্থিতিতে চাকরি হারানো যোগ্য প্রার্থীরাও নিজেদের অধিকার বুঝে নিতে আইনি পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁরা জেলাভিত্তিক যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা তৈরির কাজ করছেন এবং শীঘ্রই তাঁরাও সুপ্রিম কোর্টে রিভিউ পিটিশন দাখিল করতে পারেন। তবে যোগ্যদের একাংশের ইচ্ছা, যেহেতু প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার বেঞ্চেই এই মামলা ছিল এবং তিনি শীঘ্রই, অর্থাৎ আগামী ১৩ মে অবসর গ্রহণ করবেন, তাই নতুন প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে তাঁদের মামলার শুনানি হোক।

উল্লেখ্য, এর আগে মধ্যশিক্ষা পর্ষদও আদালতে একটি মডিফিকেশন অ্যাপ্লিকেশন দাখিল করেছিল। তার প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছিল যে ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে আপাতত শুধুমাত্র ‘যোগ্য’ শিক্ষকরাই কাজে বহাল থাকতে পারবেন। এবার SSC এবং সম্ভবত যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের রিভিউ পিটিশনের ফলে এই মামলার জল কতদূর গড়ায়, সেটাই এখন দেখার।