পাশের হারে প্রথম পূর্ব মেদিনীপুর, দ্বিতীয় কালিম্পং, দেখেনিন পাশের হারে কে কোথায়

শুক্রবার সকাল ৯টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই সমাপ্ত হলো ২০২৩ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলের প্রতীক্ষা। মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় সাংবাদিক সম্মেলন করে জানান যে, এবছর সার্বিকভাবে রাজ্যের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের পাশের হার গতবারের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এক অত্যন্ত ইতিবাচক দিক। সকাল ১০টা থেকেই পরীক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলো থেকে তাদের ফলাফল জানতে পারবে।

পর্ষদ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত বছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাশের হার ছিল ৮৬.৩১ শতাংশ। এবছর সেই হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৬.৫৬ শতাংশে, অর্থাৎ সার্বিকভাবে উত্তীর্ণের হার বেড়েছে ০.২৫ শতাংশ। এটি রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে একটি আশাব্যঞ্জক চিত্র তুলে ধরে।

জেলার নিরিখে ফলাফলের বিচারে এবার সেরার শিরোপা অর্জন করেছে পূর্ব মেদিনীপুর। এই জেলার পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ৯৬.৪৬ শতাংশই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে, যা সর্বোচ্চ। পাশের হারে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পাহাড় কন্যা কালিম্পং। কলকাতা তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে এবং পশ্চিম মেদিনীপুর রয়েছে চতুর্থ স্থানে। জেলার পারফরম্যান্স বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে যে, কিছু জেলার ছাত্রছাত্রীরা অসাধারণ ফল করেছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এ বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হয়েছিল গত ২৩ ফেব্রুয়ারি এবং শেষ হয়েছিল ২২ ফেব্রুয়ারি। রাজ্যজুড়ে মোট ৯,৬৯,৪২৫ জন পরীক্ষার্থী এই পরীক্ষায় বসেছিল। এটি গত বছরের পরীক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনায় প্রায় ৫৬ হাজার বেশি। এছাড়াও, বিশেষ মানবিকতার নজির হিসেবে ৪৯৩ জন পরীক্ষার্থী শারীরিক অসুস্থতা বা অন্যান্য বিশেষ পরিস্থিতির কারণে হাসপাতাল থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল।

ফলাফল ঘোষণার পাশাপাশি এ বছরের মাধ্যমিকের মেধাতালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। এবারের মেধাতালিকা বেশ দীর্ঘ। ১ থেকে ১০ -এর মধ্যে অর্থাৎ মাধ্যমিকের শীর্ষ দশে এবার মোট ৬৬ জন কৃতী ছাত্রছাত্রী স্থান পেয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। এই বিপুল সংখ্যক কৃতিদের মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে রায়গঞ্জ করোনেশন হাই স্কুলের এক ছাত্র। এই মেধাবী ছাত্রছাত্রীরাই রাজ্যের ভবিষ্যতের পথ প্রদর্শক।

সব মিলিয়ে, ২০২৩ সালের মাধ্যমিক ফলাফল রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য এক মিশ্র চিত্র উপস্থাপন করেছে। সার্বিকভাবে পাশের হার বৃদ্ধি পেলেও, জেলার ফলাফলে ভিন্নতা দেখা গেছে। তবে কৃতিদের দীর্ঘ তালিকা নিঃসন্দেহে আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা জোগাবে।