ঝড়-বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত রাজধানী, জলমগ্ন দিল্লির একাধিক এলাকা, দুর্যোগে মৃত ৪

প্রবল ঝোড়ো হাওয়া, বৃষ্টি এবং বজ্রপাতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে রাজধানী দিল্লি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার আচমকা ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই ঝড়ের কারণে দিল্লিতে গাছ ভেঙে তিন শিশু সহ মোট চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও ব্যাপক ক্ষতির পাশাপাশি দিল্লি সহ সংলগ্ন এলাকায় যান চলাচল এবং বিমান পরিষেবাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এই চরম আবহাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD) দিল্লির জন্য লাল সতর্কতা জারি করেছে।

ঝড়ের কারণে সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে দিল্লির দ্বারকা এলাকায়। সেখানে একটি বাড়ির উপর বিশাল একটি গাছ ভেঙে পড়ে। এর ফলে ওই বাড়ির একাংশ ভেঙে যায় এবং তার নিচে চাপা পড়ে এক মহিলা ও তাঁর তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে।

ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে দিল্লির লাজপত নগর, আর কে পুরম এবং দ্বারকার মতো বেশ কিছু এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একাধিক রাস্তা এবং নিচু এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে, যার ফলে যান চলাচল প্রায় থমকে গেছে। সকাল থেকেই ওই এলাকাগুলিতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে এবং যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

ঝড়-বৃষ্টির কারণে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান চলাচলও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দৃশ্যমানতা কমে যাওয়া এবং প্রবল হাওয়ার কারণে দিল্লিগামী একাধিক উড়ানের যাত্রাপথ ঘুরিয়ে দিতে হয়েছে। তিনটি বিমানকে আমেদাবাদ এবং জয়পুরে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বেঙ্গালুরু-দিল্লি এবং একটি পুনে-দিল্লি উড়ানের যাত্রাপথও পরিবর্তন করা হয়। ঝড়ের পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও বিমান নামার জন্য গড়ে ২১ মিনিট এবং ওড়ার জন্য গড়ে ৬১ মিনিট পর্যন্ত বিলম্বিত হচ্ছে বলে বিমানবন্দর সূত্রে খবর।

IMD তাদের সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, শুক্রবার সকালেও বজ্রপাত এবং ৭০-৮০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে প্রবল ঝড়ের পূর্বাভাস রয়েছে। আগামী তিন দিন অর্থাৎ শনি, রবি এবং সোমবারও দিল্লি ও তার সংলগ্ন এলাকায় বৃষ্টি, বজ্রপাত এবং দমকা বাতাস অব্যাহত থাকবে। দিল্লির সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার পরিস্থিতিতে IMD-র তরফে বাসিন্দাদের ঘরের ভিতরে থাকার, গাছের নিচে বা ঝুঁকিপূর্ণ কাঠামোতে আশ্রয় নেওয়া এড়িয়ে চলতে এবং বজ্রপাতের সময় ইলেকট্রনিক ডিভাইসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার মতো সুরক্ষা বিধি মেনে চলার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য কাজ করছে।