বিশেষ: দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে প্রবেশের আগে জেনেনিন এই নিয়ম, নইলে পড়বেন বিপাকে

বহু প্রতীক্ষার পর অবশেষে অক্ষয় তৃতীয়ার শুভলগ্নে প্রাণ প্রতিষ্ঠা হয়েছে দিঘার নবনির্মিত জগন্নাথদেবের মন্দিরে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে বুধবার এই অত্যাধুনিক মন্দিরের দ্বারোদ্ঘাটন হওয়ার পরেই তা সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। আর দ্বার খুলতেই দিঘার এই নতুন আকর্ষণ দেখতে এবং জগন্নাথদেবের দর্শন পেতে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী ও পর্যটক ভিড় জমাতে শুরু করেছেন। বুধবার উদ্বোধনের দিন থেকেই মানুষ নতুন মন্দির কেমন হয়েছে তা দেখতে এসেছেন এবং বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মন্দির চত্বরে ভক্তদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু দিঘার এই নতুন মন্দিরে প্রবেশের ক্ষেত্রে কী কী নিয়ম মেনে চলতে হবে, জানেন কি?

মন্দিরে প্রবেশের নিয়ম এবং প্রতিদিনের কার্যকলাপ নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন কলকাতা ইস্কনের সহ-সভাপতি রাধারামন দাস, যিনি বর্তমানে দিঘার এই মন্দিরের দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী:

মন্দিরের সময়সূচী ও প্রবেশের নিয়ম:

  • দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের দরজা প্রতিদিন সকাল ৬টায় ভক্তদের জন্য খোলা হবে।
  • মন্দির বন্ধ হবে রাত ৯টায়।
  • মন্দিরে মোট সাতটি দরজা থাকলেও, বর্তমানে এক, দুই, তিন ও ছয় নম্বর দরজা দিয়ে সাধারণ পুণ্যার্থীরা প্রবেশ করতে পারবেন।
  • মূল দরজার সামনে একটি কাউন্টার রয়েছে যেখানে দর্শনার্থীরা জুতো খুলে মন্দিরে প্রবেশ করতে পারবেন।

প্রতিদিনের ভোগ নিবেদন:

রাধারামন দাস জানিয়েছেন, প্রতিদিন জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা সহ অন্যান্য দেবতাদের মোট চারবার ভোগ নিবেদন করা হবে।

  • সকালে মিষ্টি ও ক্ষীর ভোগ হিসেবে দেওয়া হবে।
  • ভোগ নিবেদনের সময়গুলি হল: সকাল সাতটা, সকাল দশটা, দুপুর বারোটা এবং সন্ধ্যা ছ’টা।
  • দুপুরের ভোগে তিন দেবদেবীকে রাজভোগ নিবেদন করা হবে।
  • এছাড়াও, সাধারণ মানুষের আনা মিষ্টি, ফল সহ অন্যান্য ভোগও গ্রহণ করে প্রভু জগন্নাথের কাছে নিবেদন করা হবে।

মন্দিরের চূড়ায় ধ্বজা উত্তোলন:

প্রতিদিন সকালে নিয়ম মেনে মন্দিরের চূড়ায় ধ্বজা লাগানো হবে। আবার বিকেল সাড়ে চারটে থেকে পাঁচটার মধ্যে সেই ধ্বজা নামিয়ে নেওয়া হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি সম্পন্ন করার জন্য দিঘার মন্দিরে দুজন কর্মীকে বিশেষভাবে নিয়োগ করা হয়েছে।

দিঘার এই নতুন জগন্নাথ মন্দির একদিকে যেমন আধ্যাত্মিক পরিবেশ তৈরি করেছে, তেমনই পর্যটকদের জন্য নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। স্বাভাবিকভাবেই আগামী দিনগুলিতে এখানে ভক্ত ও পর্যটকদের ভিড় আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।