“জাতিভিত্তিক জনগণনা করবে কেন্দ্র সরকার”-রাহুল গান্ধীর হাতিয়ার কেড়ে নিল বিজেপি?

বহু প্রতীক্ষিত এবং রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়, জাতিভিত্তিক জনগণনা। কেন্দ্র সরকার অবশেষে এই বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করল। বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পৌরহিত্যে অনুষ্ঠিত রাজনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি (CCPA)-র বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, আসন্ন জনগণনার প্রক্রিয়ার মধ্যেই জাতিভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ করা হবে। লোকসভা নির্বাচনের আগে এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা, কারণ গত কয়েক বছর ধরে বিরোধী দলগুলি, বিশেষ করে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, ধারাবাহিকভাবে জাতিভিত্তিক জনগণনার পক্ষে সওয়াল করে আসছেন।

সিসিপিএ বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি আজ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে আসন্ন জনগণনায় জাতিভিত্তিক গণনাকে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।’

উল্লেখ্য, ২০২১ সালেই দেশে জনগণনা হওয়ার কথা ছিল, যা কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে নির্ধারিত সময়ে করা সম্ভব হয়নি এবং তারপর থেকে তা আটকে রয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে জাতিভিত্তিক জনগণনার দাবি ক্রমশ জোরালো হয়েছে। রাহুল গান্ধী বহুবার কেন্দ্রকে জাতিভিত্তিক জনগণনার ফল প্রকাশের জন্য চাপ দিয়েছেন এবং দেশজুড়ে এই প্রক্রিয়া শুরু করার দাবি জানিয়েছেন। এরই মধ্যে বিহারে (তৎকালীন কংগ্রেস ও আরজেডি সরকারের উদ্যোগে) এবং সম্প্রতি কর্ণাটকের কংগ্রেস সরকার নিজস্বভাবে জাতিভিত্তিক সমীক্ষা পরিচালনা করেছে।

তবে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব রাজ্যগুলির দ্বারা পরিচালিত এই ধরনের জাতিভিত্তিক সমীক্ষাগুলিকে ‘অবৈজ্ঞানিক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস এবং ‘ইন্ডিয়া’ জোটের অন্য দলগুলি জাতিভিত্তিক জনগণনাকে নিছকই একটি ‘রাজনৈতিক হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করছে এবং রাজ্যগুলি যে সমীক্ষা করেছে তা ‘অস্বচ্ছ’ উপায়ে করা হয়েছে, যা সমাজে সন্দেহের বাতাবরণ তৈরি করে।

অশ্বিনী বৈষ্ণব আরও বলেছেন, ‘কিছু রাজ্য জাতিভিত্তিক জনগণনা করেছে… অন্যরা কেবল রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অস্বচ্ছ উপায়ে এই ধরণের সমীক্ষা করেছে। এই ধরণের সমীক্ষা সমাজে সন্দেহের বাতাবরণ তৈরি করে। রাজনীতির দ্বারা আমাদের সামাজিক কাঠামো যাতে বিঘ্নিত না হয় তা নিশ্চিত করতে সমীক্ষার পরিবর্তে জাতিভিত্তিক জনগণনাকে জাতীয় জনগণনার অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।’ অর্থাৎ কেন্দ্রের মতে, আলাদা রাজ্যের সমীক্ষার চেয়ে জাতীয় জনগণনার অংশ হিসেবে তথ্য সংগ্রহ করাই সঠিক প্রক্রিয়া।

একই সঙ্গে অশ্বিনী বৈষ্ণব এই ইস্যুতে পূর্ববর্তী কংগ্রেস সরকারগুলির ভূমিকায় প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, ১৯৪৭ সালের পর থেকে কোনো কংগ্রেস সরকার একবারও জাতিভিত্তিক জনগণনা করার উদ্যোগ নেয়নি, অথচ আজ তারাই সবচেয়ে বেশি এই দাবি জানাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, ধারাবাহিক ভাবে কংগ্রেসই এর বিরোধিতা করে এসেছে। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বিরোধী দলগুলির লাগাতার চাপের কাছে নতিস্বীকার নাকি নিজেদের অ্যাজেন্ডা নির্ধারণের কৌশল হিসেবে দেখছেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।