“মন্দিরে হবে মূর্তির প্রাণপ্রতিষ্ঠা”-বাঁকুড়া থেকে দিঘায় গেল ৩০০৩ পদ্ম ও শুশুনিয়ার ঝর্ণার জল

কেবল বাংলার সৈকত শহর দিঘাই নয়, নবনির্মিত জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনকে ঘিরে এখন উৎসবের আবহে মাতোয়ারা হয়ে উঠেছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত। কাল, বুধবার অক্ষয় তৃতীয়ার পুণ্যতিথিতে দিঘায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই মন্দিরের দ্বারোদঘাটন এবং মূর্তির প্রাণপ্রতিষ্ঠা করবেন। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে এবং নিজেদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে রাজ্যের নানা জেলা থেকে যাচ্ছে বিশেষ উপাচার, আয়োজিত হচ্ছে সমান্তরাল ধর্মীয় অনুষ্ঠান।

দিঘার মূল মন্দির প্রাঙ্গণে আজ, মঙ্গলবার সকাল থেকেই মহাযজ্ঞ সহ অন্যান্য ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গেছে। এই ‘মহাকর্মযজ্ঞে’ ব্যবহৃত হবে বাঁকুড়া জেলার ছাতনা থেকে আসা বিশেষ সামগ্রী।

বাঁকুড়ার শুশুনিয়া থেকে পবিত্র জল ও পদ্মফুল দিঘায়

বাঁকুড়ার ছাতনা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বঙ্কিম মিশ্রের উদ্যোগে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের পুজোর জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে বাঁকুড়ার শুশুনিয়া পাহাড়ের ঝর্ণার জল এবং এলাকার পুকুর থেকে সংগ্রহ করা ৩০০৩টি পদ্মফুল। গত সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ সাদা ও লাল রঙের এই পদ্ম ফুল ও শুশুনিয়া পাহাড়ের পবিত্র জল জার ভর্তি করে একটি গাড়িতে চারজনের একটি দল ছাতনা থেকে দিঘার উদ্দেশে রওনা দেয় এবং বিকেল পৌনে ৫টা নাগাদ সেখানে পৌঁছয়। রাঢ় বাংলার মানুষ শুশুনিয়া পাহাড়ের ঝর্ণার জলকে অত্যন্ত পবিত্র মনে করেন। পদ্মফুলের সংখ্যা ৩০০৩টি হওয়ার পেছনে বিশেষ কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছেন বঙ্কিম মিশ্র। সোমবার সকালে ফুল ও জল নিয়ে যাত্রার সময় ঢাক, কাসর, ঘণ্টা বাজিয়ে এবং উলুধ্বনি, শঙ্খধ্বনি দিয়ে তাঁদের বিদায় জানান স্থানীয় মহিলারা। বঙ্কিম মিশ্র বলেন, দিঘায় শুরু হওয়া বিশাল কর্মযজ্ঞে এই পবিত্র জল ও ফুল কাজে লাগবে।

বাঁকুড়া শহর ও পুরুলিয়ার সমান্তরাল উদযাপন

শুধু দিঘার মন্দিরেই নয়, এই উপলক্ষে বাঁকুড়া জেলা সদরেও আয়োজন করা হয়েছে মহাযজ্ঞের। বাঁকুড়ার সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী ও বাঁকুড়া পুরসভার উদ্যোগে আজ, মঙ্গলবার শহরের মাচানতলা ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে এই যজ্ঞ অনুষ্ঠিত হবে। যজ্ঞের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে সোমবার উপস্থিত ছিলেন বাঁকুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান অলোকা সেন মজুমদার সহ অন্যান্য তৃণমূল নেতৃত্ব। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, এই যজ্ঞে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ১০০০ জন পুরোহিত অংশ নেবেন এবং ১৫ কেজি ঘি আহুতি দেওয়া হবে।

অন্যদিকে, দিঘায় মন্দির উদ্বোধনের দিন পুরুলিয়া জেলাতেও পালিত হবে বিশেষ কর্মসূচি। পুরুলিয়ায় শহর থেকে গ্রাম, সর্বত্র পুজোপাঠের পাশাপাশি ধর্মীয় শোভাযাত্রার আয়োজন করেছে জেলা তৃণমূল কংগ্রেস। তবে এই কর্মসূচিতে কোনো দলীয় পতাকা ব্যবহার করা হবে না, সম্পূর্ণ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখা হবে। পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল সভাপতি সৌমেন বেলথরিয়া জানান, জেলার তিনটি পুর এলাকা সহ সমস্ত ব্লক সদর ও আঞ্চলিক স্তরেও এই দিনটি উদযাপনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ব্লকে বড় স্ক্রিনে দিঘার মূল অনুষ্ঠান ও প্রাণপ্রতিষ্ঠা পর্ব দেখানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ধর্মীয় শোভাযাত্রা, স্থানীয় মন্দিরে পুজো এবং প্রসাদ বিতরণের আয়োজনও করা হবে।

সব মিলিয়ে, দিঘার নবনির্মিত জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে এক ভক্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন জেলার এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই ঘটনাকে শুধুমাত্র একটি মন্দির উদ্বোধন না রেখে সমগ্র রাজ্যের একটি আধ্যাত্মিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিণত করেছে।