ফের বাতি হাতে পাকিস্তান! চিনের কাছে কত ‘ভিক্ষা’ চাইল তারা?

পহেলগাম সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে নতুন করে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে পাকিস্তানের আর্থিক নীতির উপর। এই পরিস্থিতিতে আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পাকিস্তান এখন চীনের কাছ থেকে আরও বেশি সহায়তা পাওয়ার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন যে, তারা চীনের সঙ্গে তাদের বিদ্যমান কারেন্সি সোয়াপ লাইন বা মুদ্রা বিনিময় সুবিধা ৩০ বিলিয়ন ইউয়ান থেকে বাড়িয়ে ৪০ বিলিয়ন ইউয়ানে উন্নীত করার জন্য অনুরোধ করেছে। এই অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ইউয়ান, যা প্রায় ১.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমতুল্য, পাকিস্তানের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে এবং জরুরি সময়ে তারল্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলে ইসলামাবাদ আশা করছে।
উল্লেখ্য, কারেন্সি সোয়াপ লাইন হলো দুটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে এক ধরনের চুক্তি, যা তাদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিজেদের মধ্যে মুদ্রা বিনিময় করার সুবিধা দেয়। অর্থনৈতিক সংকটের সময় এটি বাজারে টাকার প্রবাহ বজায় রাখতে এবং মুদ্রার মান ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চীন ইতিমধ্যেই আর্জেন্টিনা এবং শ্রীলঙ্কার মতো আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে এমন সোয়াপ লাইন চুক্তি সম্প্রসারণ করেছে এবং পাকিস্তানও এখন এই তালিকায় নিজের নাম পাকা করতে চাইছে।
কারেন্সি সোয়াপ লাইন বাড়ানোর প্রচেষ্টার পাশাপাশি, পাকিস্তান ২০২৫ সালের শেষ হওয়ার আগেই চীনের অভ্যন্তরীণ পুঁজিবাজারে ইউয়ান-মুদ্রিত বন্ড, যা ‘পান্ডা বন্ড’ (Panda Bond) নামে পরিচিত, তা চালু করার পরিকল্পনা করছে। বিদেশি সংস্থাগুলি চীনের বাজারে এই বন্ড ইস্যু করতে পারে। এই পদক্ষেপ পাকিস্তানের ঋণ সংগ্রহের উৎসকে আরও বহুমুখী করবে এবং চীনের বাজার থেকে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে সাহায্য করবে।
প্রসঙ্গত, পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের উপর হামলার পর ভারত পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়ার অভিযোগ আনে। এর প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তান ভারতীয় বিমানের জন্য তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয় এবং ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্পূর্ণভাবে স্থগিত ঘোষণা করে। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ভারতও সিন্ধু জলচুক্তি সাময়িকভাবে স্থগিত এবং আত্তারি সীমান্ত বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই ঘটনাপ্রবাহের ফলে দুই দেশের মধ্যে বার্ষিক বাণিজ্য প্রায় ১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে, যা পাকিস্তানের অর্থনীতিতে আরও চাপ সৃষ্টি করেছে।
সার্বিকভাবে বলা যায়, ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কে চলমান উত্তেজনার ফলে সৃষ্ট আর্থিক চাপ মোকাবেলা করতে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের আর্থিক পরিস্থিতি সামাল দিতে পাকিস্তান এখন কৌশলগতভাবে চীনের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আরও গভীর করতে চাইছে। এই আর্থিক সহায়তা পাকিস্তানের বর্তমান চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি মোকাবিলায় কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।