“ঝাড়ুদারের চাকরি পেতে মায়ের গয়না বন্ধক”-সরকারি চাকরির লোভে টাকা দিয়ে প্রতারিত যুবক

সরকারি চাকরির লোভ দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা নতুন নয়। এবার মুম্বইয়ে পুরসভার ঝাড়ুদারের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে প্রায় আট লাখ টাকা প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন প্রতারিত চাকরিপ্রার্থী। ঘটনাটি ঘিরে মুম্বইয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই নাগেশ পাওয়ার নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে আরও খবর, প্রতারিত ওই যুবকের নাম প্রথমেশ বিচারে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চাকরির চেষ্টা করছিলেন এবং চাকরির সন্ধানে তিনি মরিয়া ছিলেন। অভিযোগে প্রথমেশ জানিয়েছেন, ২০১৮ সাল নাগাদ এক বন্ধুর মাধ্যমে নাগেশ পাওয়ার নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। নাগেশ প্রথমেশকে জানায়, টাকা দিলেই সে পুরসভায় ঝাড়ুদারের চাকরি করিয়ে দেবে। এর জন্য আট লাখ টাকা লাগবে বলে মোটা অঙ্কের দাবি জানায় নাগেশ। চাকরির নিশ্চয়তা পেয়ে প্রমথেশ তার কথায় রাজি হয়ে যান। নিজের মায়ের গয়না বন্ধক রেখে অনেক কষ্ট করে চাকরির জন্য নাগেশকে আট লাখ টাকা দেন তিনি।
প্রমথেশের কথায়, টাকা নেওয়ার পর প্রতারক নাগেশ তাঁকে বিশ্বাস করাতে বেশ কিছু কৌশল অবলম্বন করে। প্রথমে একটি ফিটনেস সার্টিফিকেট দেয়। তাঁর নামে একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলায় এবং তাঁকে বৃন্মুম্বই পুরসভাতেও নিয়ে যায়, যাতে প্রমথেশ বিশ্বাস করে যে শীঘ্র চাকরি পেয়ে যাবে। নাগেশ এখানেই থেমে থাকেনি। প্রতারিত তরুণের অভিযোগ, নাগেশ তাঁকে চাকরির ভুয়ো নিয়োগপত্র বা কাগজও দেয় এবং প্রতিশ্রুতি দেয় যে মাসে মাসে এই অ্যাকাউন্টে স্যালারি ঢুকে যাবে।
কিন্তু চাকরির ভুয়ো কাগজ এবং অ্যাকাউন্টে স্যালারি ঢোকার প্রতিশ্রুতি কেবল প্রতারণার জাল ছিল। তিন মাস কেটে গেলেও অ্যাকাউন্টে কোনও স্যালারি না ঢোকায় যুবকের সন্দেহ হয়। তিনি বারবার নাগেশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং টাকার ও চাকরির খোঁজ নেন। এক পর্যায়ে নাগেশ তাঁকে জানায় যে এক ব্যক্তি তাঁর নিয়োগ নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় আরটিআই (RTI) করেছে। সেই কারণে নাকি তাঁর নিয়োগ বাতিল হয়ে গিয়েছে।
নাগেশের এই কথা শোনার পর প্রমথেশ বুঝতে পারেন যে তিনি ভয়ঙ্করভাবে প্রতারিত হয়েছেন। নিজের সর্বস্ব হারিয়েছেন। তৎক্ষণাৎ তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন এবং নাগেশ পাওয়ারের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। পুলিশ ঘটনার সত্যতা যাচাই করছে এবং নাগেশ পাওয়ারের খোঁজ শুরু করেছে। জানা গেছে, ঘটনার পর থেকে নাগেশ পাওয়ার পলাতক রয়েছে।
এই ধরনের প্রতারণা চক্র থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে তবেই পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলছেন আধিকারিকরা।