‘আমরা পহেলগাঁওয়ে হামলা চালাইনি..,’ দায় স্বীকারের দু’দিনের মধ্যেই ১৮০ ডিগ্রি ইউ-টার্ন! তাহলে পিছনে কে?

কাশ্মীরের পহেলগাঁওতে নিরীহ পর্যটকদের ওপর বর্বরোচিত হামলার দায় প্রথমে নিজেদের কাঁধে তুলে নিলেও মাত্র দু’দিনের মধ্যেই সম্পূর্ণ ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেল জঙ্গি সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (TRF)। পাকিস্তানভিত্তিক লস্কর-ই-তৈবার এই শাখা সংগঠনটি শনিবার একটি অডিও ক্লিপ প্রকাশ করে দাবি করেছে, তারা পহেলগাঁওতে কোনও হামলা চালায়নি এবং এই ঘটনার সঙ্গে তাদের সংগঠনের কোনও যোগ নেই। অথচ, হামলার দিন, অর্থাৎ গত মঙ্গলবার সন্ধেবেলাতেই একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বৈসরন উপত্যকায় ২৬ জন পর্যটককে গুলি করে হত্যার কথা স্বীকার করেছিল TRF।

শনিবারের নতুন বিবৃতিতে TRF আরও চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে। তারা জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী তদন্ত করে দেখেছে যে তাদের সংগঠনের কেউ পহেলগাঁওয়ের ঘটনায় জড়িত ছিল না। বরং, তাদের ওয়েবসাইটে কোনও ‘বড় ধরনের সাইবার হানা’ হয়েছে। TRF-এর দাবি, প্রাথমিক ভাবে তারা মনে করছে ভারত সরকারের সাইবার ইন্টেলিজেন্স এই ‘হ্যাক’-এর জন্য দায়ী এবং তাদের ওয়েবসাইট থেকে হামলার দায় স্বীকার করে যে পোস্ট করা হয়েছিল, তা ‘অননুমোদিত’ ছিল।

পাকিস্তানভিত্তিক এই ছায়াসংগঠন তাদের নতুন বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ‘‘পহেলগাঁও ঘটনার সঙ্গে আমাদের কোনও সম্পর্ক নেই। এই ঘটনার জন্য TRF-কে দায়ী করা একটি ভুল ও তড়িঘড়িতে নেওয়া সিদ্ধান্ত৷’’ তারা জোর দিয়ে বলেছে যে, “অভ্যন্তরীণ তদন্তের পর আমরা জোরের সঙ্গে বলতে পারছি এটা একটা সমন্বিত সাইবার হামলার ফল। আমরা পুরো বিষয়টি তদন্ত করছি এবং প্রাথমিকভাবে আমাদের কাছে ইঙ্গিত রয়েছে যে, ভারতীয় সাইবার-গোয়েন্দা সংস্থার এর সঙ্গে যোগ থাকতে পারে৷”

মনে করা হচ্ছে, পহেলগাঁও হামলার দায় স্বীকার করার পর কাশ্মীরজুড়ে স্থানীয়দের মধ্যে যে তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল এবং সাধারণ মানুষ পাকিস্তান ও তার মদতপুষ্ট সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে যেভাবে সরব হয়েছিল, তাতে নিজেদের ভাবমূর্তি রক্ষা করতেই TRF এখন এই অবস্থান বদল করেছে এবং দায় অস্বীকার করার চেষ্টা করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থানীয় চাপের মুখেই তারা এই ‘ইউ-টার্ন’ নিতে বাধ্য হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক TRF-কে একটি “সন্ত্রাসবাদী সংগঠন” হিসেবে ঘোষণা করেছে। সন্ত্রাসবাদ প্রচার, জঙ্গি নিয়োগ, অনুপ্রবেশে সহায়তা এবং পাকিস্তান থেকে জম্মু ও কাশ্মীরে অস্ত্র ও মাদক চোরাচালানের মতো কার্যকলাপে তাদের যুক্ত থাকার প্রমাণ মিলেছিল। এমন একটি সংগঠন যে রাতারাতি নিজেদের প্রাথমিক দাবি থেকে সরে এসে সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা বলছে এবং সাইবার হামলার মতো অস্বাভাবিক যুক্তি দেখাচ্ছে, তা ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।