পহেলগাম কাণ্ডে কাশ্মীর ট্যুর বাতিল,পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে দার্জিলিং-সিকিম-ডুয়ার্সে

পহেলগামে নিরীহ পর্যটকদের উপর ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী হামলার পর কাশ্মীর ভ্রমণ পরিকল্পনা বাতিল করে বিকল্প গন্তব্যের সন্ধানে নেমেছেন বহু পর্যটক। এই ঘটনার জেরে কাশ্মীরের পর্যটন ব্যবসায় ধস নামার সঙ্গে সঙ্গেই গরমের ছুটিতে উত্তরবঙ্গ এবং সিকিমের পর্যটনে নতুন করে জোয়ার এসেছে।
চলতি বছরে উত্তরবঙ্গ ও সিকিমের পর্যটন ব্যবসায় কিছুটা মন্দা চলছিল। তবে কাশ্মীরের সাম্প্রতিক হামলার ঘটনা পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে দিয়েছে। যে সমস্ত পর্যটক কাশ্মীরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, নিরাপত্তার কারণে তারা এখন উত্তরবঙ্গের পাহাড় এবং ডুয়ার্সের বনাঞ্চলকে বেছে নিচ্ছেন। সিকিমও পর্যটকদের পছন্দের তালিকায় উপরের দিকে উঠে এসেছে।
পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা জানাচ্ছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরবঙ্গ ও সিকিমের পর্যটন কেন্দ্রগুলির বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া অর্থাৎ ‘স্পট এনকোয়ারি’র পরিমাণ বিপুলভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেকেই এখন এনজেপি স্টেশন থেকে সিকিমের পেলিং, সিল্ক রুটের আরিটার হয়ে জুলুক-কুপুপ এবং বাবা মন্দির ঘুরে গ্যাংটক হয়ে ফিরে আসার দীর্ঘ ভ্রমণসূচী তৈরি করতে আগ্রহী হচ্ছেন। একইভাবে লোলেগাঁও, লাভা, কাফেরগাঁওয়ের শান্ত পরিবেশের সঙ্গে গরুমারা জাতীয় উদ্যানের জঙ্গল সাফারির আকর্ষণেও বহু পর্যটক উত্তরবঙ্গকে বেছে নিচ্ছেন।
উত্তরবঙ্গের পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, কাশ্মীর পরিকল্পনা বাতিল হওয়ার কারণে পর্যটকরা এখন তিন-চার দিনের ছোট সফরের বদলে ৬ থেকে ১০ দিনের লম্বা ছুটি কাটানোর পরিকল্পনা করছেন। কলকাতার এক ট্যুর অপারেটর সংস্থার কর্ণধার শুভজিৎ দিকপতি জানিয়েছেন, তাদের একের পর এক কাশ্মীর ভ্রমণের বুকিং বাতিল হচ্ছে এবং পর্যটকরা তার বদলে সিকিম, দার্জিলিং এবং কালিম্পংয়ের প্যাকেজ চাইছেন। অগ্রিম টাকা জমা দেওয়া থাকায় পর্যটকরা একেবারে ভ্রমণ বাতিল না করে বিকল্প গন্তব্যে যেতে আগ্রহী হচ্ছেন।
আগামী পয়লা মে থেকে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি স্কুলগুলোতে গরমের ছুটি শুরু হয়ে যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই বহু পরিবার ছুটির লম্বা পরিকল্পনা আগে থেকেই সেরে রেখেছিল। কাশ্মীরের পরিস্থিতি তাদের বাধ্য করছে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ের দিকে নতুন করে ভাবতে। অ্যাসোসিয়েশন ফর কনজ়ারভেশন অ্যান্ড টুরিজ়মের ক্রস বর্ডার কর্মকর্তা তন্নিষ্ঠা চক্রবর্তী পহেলগামের ঘটনাকে অত্যন্ত নিন্দনীয় আখ্যা দিয়ে বলেছেন যে, যারা কাশ্মীরের পরিকল্পনা বাতিল করে উত্তরবঙ্গে আসতে চাইছেন, তাদের সব রকমভাবে সাহায্য করার চেষ্টা করবেন তারা।
তবে পর্যটন ব্যবসায়ীরা আগাম জানিয়ে রাখছেন যে, এই মুহূর্তে উত্তরবঙ্গে আসার ট্রেনের টিকিট পাওয়া কঠিন এবং সড়কপথই এখন প্রধান ভরসা। একই সঙ্গে তারা মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, কাশ্মীর ভ্রমণে যেখানে মাথাপিছু ৩০-৩৫ হাজার টাকা খরচ হতো, সেখানে উত্তরবঙ্গের হটস্পটগুলিতে জনপ্রতি মাত্র ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকাতেই ভালোভাবে ঘুরে আসা সম্ভব।
উত্তরবঙ্গের পর্যটন ব্যবসায়ীরা পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্য সিকিমের বরফ আচ্ছাদিত কিছু এলাকা, সান্দাকফুর মতো সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এবং মিরিক, পশুপতি হয়ে নেপালের দিকে ঘুরে আসার মতো ভ্রমণ পরিকল্পনার প্রচার চালাচ্ছেন, যা পর্যটকদের কিছুটা হলেও বিদেশ ভ্রমণের স্বাদ দেবে। সব মিলিয়ে, পহেলগামের হামলার পর কাশ্মীরের পর্যটন ব্যবসায় যে গভীর সংকট তৈরি হয়েছে, তার সরাসরি সুফল পাচ্ছে উত্তরবঙ্গ এবং সিকিমের পর্যটন শিল্প।