কীভাবে পহেলগাঁওয়ে ঢুকল জঙ্গিরা? গোয়েন্দাদের হাতে বড় তথ্য, রহস্যের সমাধান !

কাশ্মীরের অন্যতম সুন্দর পর্যটন কেন্দ্র পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকায় গত মঙ্গলবার ঘটে যাওয়া ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিরীহ পর্যটকের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর তদন্ত জোরদার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। ঘন পাইনের জঙ্গল এবং দুর্গম পাহাড়ি এলাকা পেরিয়ে জঙ্গিরা কীভাবে পহেলগাঁওয়ে প্রবেশ করল এবং এমন একটি পরিকল্পিত হামলা চালালো, সেই প্রশ্নই প্রথম থেকে তদন্তকারীদের ভাবাচ্ছিল। এবার এই রহস্য সমাধানের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে এসেছে।

তদন্তকারীদের ধারণা, এই হামলার অপারেশন চালাতে জঙ্গিরা ‘অ্যালপাইন কোয়েস্ট’ (Alpine Quest) নামে একটি বিশেষ এনক্রিপ্টেড অ্যাপের সাহায্য নিয়েছিল। গোয়েন্দাদের মনে হচ্ছে, এই অ্যাপের মাধ্যমেই জঙ্গিরা পুলিশ ও পর্যটকদের গতিবিধির উপর লাগাতার নজর রাখছিল এবং একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছিল। প্রশ্ন উঠছিল, ঘন পাইনের জঙ্গলের মধ্যে কীভাবে জঙ্গিরা নেটওয়ার্ক পাচ্ছিল? গোয়েন্দা সূত্রে মনে করা হচ্ছে, এই বিশেষ অ্যাপটি সম্ভবত ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াও ব্যবহার করা সম্ভব, যা দুর্গম জঙ্গলে তাদের যোগাযোগ ও নজরদারিতে সাহায্য করেছে।

এই ঘটনার তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনার কথা ভাবছেন। মনে করা হচ্ছে, জঙ্গিরা কেবল প্রযুক্তিই নয়, স্থানীয় ‘হিউম্যান নেটওয়ার্ক’ বা মানব সহায়তাও ব্যবহার করতে পারে। জঙ্গিদের কারা এই কঠিন অনুপ্রবেশ ও হামলায় সাহায্য করেছিল এবং তাদের স্থানীয় যোগসূত্র কারা, তা বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার দুপুর নাগাদ অনন্তনাগ জেলার পহেলগাঁও থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বৈসরন ভ্যালি, যা কাশ্মীরের ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ নামে পরিচিত, সেখানে অতর্কিতে হামলা চালায় জঙ্গিরা। পাহাড়ে ঘেরা এই অত্যন্ত সুন্দর ও জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রে আগত নিরীহ পর্যটকদের উপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি অনুযায়ী, জঙ্গিরা পর্যটকদের নাম-পরিচয় জেনে গুলি করছিল এবং অনেককে স্ত্রী-সন্তানের সামনেই হত্যা করা হয়। এখন ‘অ্যালপাইন কোয়েস্ট’ অ্যাপ এবং ‘হিউম্যান নেটওয়ার্ক’ ব্যবহারের তত্ত্ব তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।