“১০০০ নকশালকে ঘিরে রেখেছে ২০,০০০ জওয়ান”-মাওবাদী নিকেশে চলছে অভিযান

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ‘নকশাল মুক্ত ভারত’ গড়ার প্রতিশ্রুতির অঙ্গ হিসেবে নকশাল অধ্যুষিত রাজ্যগুলিতে অভিযান চালাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী। এরই অংশ হিসেবে ছত্তিশগড়ের বিজাপুর জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর এক বিশাল যৌথ অভিযান চলছে। প্রায় ২০ হাজার জওয়ান ছত্তিশগড়, তেলেঙ্গানা এবং মহারাষ্ট্রের সীমান্ত এলাকায় আনুমানিক এক হাজার নকশালকে ঘিরে ফেলেছে। এই অভিযানে এখনও পর্যন্ত অন্তত ৫ জন নকশালকে নিকেশ করা হয়েছে বলে সূত্র মারফত জানা গেছে।

সূত্রের খবর, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান শুরু করা হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে খবর ছিল যে, বিজাপুরের এই নির্দিষ্ট অঞ্চলে একাধিক বড় নকশাল নেতা উপস্থিত রয়েছে। এমনকি মোস্ট ওয়ান্টেড নকশাল নেতা হিদমা ও দেবার লুকিয়ে থাকার খবরও এসেছিল গোয়েন্দাদের কাছে। এই খবরের পরেই দ্রুত অভিযান শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এই বিশাল আকারের যৌথ অভিযানে ডিস্ট্রিক্ট রিজার্ভ গার্ড (DRG), বস্তার ফাইটারস, স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF), রাজ্য পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট, সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (CRPF) এবং এর এলিট কমান্ডো ব্যাটালিয়ন ফর রেজোলিউট অ্যাকশন (কোবরা) সহ বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর প্রায় ২০ হাজার জওয়ান অংশ নিয়েছে।

নকশালদের পালানোর সমস্ত পথ বন্ধ করতে নিরাপত্তা বাহিনী ছত্তিশগড়-তেলেঙ্গানা সীমান্তে অবস্থিত কারেগুট্টা পাহাড় এবং এর চারপাশের ঘন জঙ্গল ও পাহাড় ঘেরা এলাকাটিকে ঘিরে রেখেছে। এই এলাকাটিকে নকশালদের একটি বড় ঘাঁটি হিসেবে গণ্য করা হয়। কিছুদিন আগে, নকশালরা একটি প্রেস নোট জারি করে ওই অঞ্চলে প্রচুর আইইডি (IED) পোঁতা আছে বলে জানিয়েছিল এবং নিরাপত্তা বাহিনী বা স্থানীয়দের সেখানে প্রবেশ না করার জন্য সতর্ক করেছিল।

চলতি বছরে ছত্তিশগড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর পৃথক এনকাউন্টারগুলিতে এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৫০ জন নকশালকে নিকেশ করা হয়েছে। এর মধ্যে কেবল বস্তার অঞ্চলেই মারা পড়েছে ১২৪ জন নকশাল। শুধু ছত্তিশগড় নয়, ঝাড়খণ্ডেও নকশালদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন শুরু করেছে সরকার। গত সপ্তাহে, ঝাড়খণ্ডের বোকারো জেলায় সিআরপিএফ-এর কোবরা কমান্ডোদের সঙ্গে এক এনকাউন্টারে ৮ জন শীর্ষ নকশাল নেতা নিহত হয়। তাদের মাথার দাম ছিল ১ কোটি টাকা।

ছত্তিশগড়-তেলেঙ্গানা সীমান্তে এই বিশাল আকারের যৌথ অভিযান কেন্দ্রীয় সরকারের নকশাল নির্মূল করার অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন। ঘন জঙ্গল ও পাহাড় ঘেরা এই অঞ্চলে নকশালদের ঘিরে ফেলে পালানোর সব পথ বন্ধ করে দেওয়ায় নিরাপত্তা বাহিনী একটি বড় সাফল্য পেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। চলতি বছরে নকশালদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর এই ধারাবাহিক সাফল্য সরকারের নকশালমুক্ত ভারত গড়ার লক্ষ্যপূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।