পহেলগাঁওয়ে হামলার পর ভারতের কড়া পদক্ষেপ, আতঙ্কে পাকিস্তান? চলছে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা

কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত যখন পাকিস্তানের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে এবং একের পর এক পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে, তখনই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ঘোষণা দিয়েছে ইসলামাবাদ। অতীতে পাকিস্তানের মদতে ভারতে বড়সড় জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটলে ভারত পাল্টা পাকিস্তানে ঢুকে জবাব দিয়ে এসেছে। এই আবহে পহেলগাঁওয়ের ঘটনার পর পাকিস্তান কিছুটা আতঙ্কে রয়েছে বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
মঙ্গলবার জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈশরণ উপত্যকায় জঙ্গিদের গুলিতে ২৬ জন নিরীহ পর্যটকের মৃত্যু হয়। এই হামলায় পাকিস্তানি জঙ্গিদের জড়িত থাকার জোরালো সম্ভাবনা থাকলেও পাকিস্তান তা বরাবরের মতোই অস্বীকার করেছে। তবে ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে এই ঘটনার যোগ্য জবাব দেওয়া হবে। গত বুধবার (২৩ এপ্রিল) ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পাঁচ দফা কঠোর পদক্ষেপ ঘোষণা করে। এর ঠিক একদিন পরেই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কথা জানালো পাকিস্তান।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, পাকিস্তান সরকার বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) থেকে শুরু করে আগামী দুদিন (২৫ এপ্রিল) পর্যন্ত ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। করাচি উপকূলের অদূরে তাদের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে থেকেই এই পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। প্রতিরক্ষা সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তানের এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিয়ে ভারতীয় এজেন্সিগুলো অত্যন্ত সতর্ক এবং দিল্লির পক্ষ থেকে এর ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, পহেলগাঁও হামলার মাত্র কয়েকদিন আগে গত ১৬ এপ্রিল প্রবাসী পাকিস্তানিদের এক সম্মেলনে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসিম মুনির কাশ্মীরের বিষয়ে উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘কাশ্মীর আমাদের গলার শিরা ছিল এবং আছে। আমরা কখনই ভারতের দখলদারির বিরুদ্ধে বিপ্লবী সংগ্রামে কাশ্মীরি ভাইদের ত্যাগ করতে পারব না।’ আর এই মন্তব্যের পরপরই কাশ্মীরে এত বড় একটি জঙ্গি হামলা ঘটায় পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন আরও তীব্র হয়েছে।
পহেলগাঁও হামলার প্রতিক্রিয়ায় ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যে পাঁচ দফা পদক্ষেপ নিয়েছে তার মধ্যে রয়েছে কূটনৈতিক সম্পর্ক হ্রাস, সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত রাখা, পাকিস্তানি কূটনীতিকদের বহিষ্কার, ওয়াঘা সীমান্ত পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া এবং ভিসায় ভারতে থাকা পাকিস্তানি নাগরিকদের দ্রুত দেশত্যাগ করতে বলা। ভারতের এই কঠোর পদক্ষেপের পরেই পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ঘোষণা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সামগ্রিকভাবে, পহেলগাঁও হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্ক অত্যন্ত সংবেদনশীল পর্যায়ে রয়েছে এবং দিল্লির পক্ষ থেকে ইসলামাবাদের প্রতিটি পদক্ষেপের উপর সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।