হামলাকারীদের ধরিয়ে দিলে ২০ লাখ পুরস্কার ঘোষণা, প্রকাশ্যে ৪ জঙ্গির ছবি

জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান আরও তীব্র হয়েছে। গত মঙ্গলবার পহেলগাঁওয়ে ২৬ জন নিরীহ পর্যটকের ভয়াবহ মৃত্যুর ঘটনার পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে জঙ্গিদমন অভিযান চলছে। এর মধ্যেই আজ সকাল থেকে জম্মু অঞ্চলের উধমপুরের দুদু-বসন্তগড় এলাকায় নিরাপত্তাবাহিনী ও জঙ্গিদের মধ্যে তীব্র গুলির লড়াই শুরু হয়েছে। এই ঘটনাতেই এক জওয়ান শহিদ হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। জঙ্গিদের নিকেশ করার জন্য অভিযান এখনও জোরকদমে চলছে।

সেনা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উধমপুরের দুদু-বসন্তগড় এলাকায় সন্ত্রাসবাদীদের উপস্থিতির খবর পেয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের যৌথ বাহিনী সেখানে অভিযান শুরু করে। জঙ্গিরা বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে পালটা জবাব দেওয়া হয়। এলাকাটি জঙ্গলে ঘেরা হওয়ার কারণে অভিযান কিছুটা কঠিন হলেও, নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের অথবা নিকেশের চেষ্টা চালাচ্ছে।

অন্যদিকে, গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকায় পর্যটকদের উপর হামলা চালানো জঙ্গিদের ধরতে মরিয়া কাশ্মীর পুলিশ। মৃতদের পরিবারের দাবি, গুলি চালানোর আগে জঙ্গিরা পর্যটকদের ধর্ম নিশ্চিত করেছিল। এই ঘৃণ্য হামলার সঙ্গে যুক্ত সন্ত্রাসীদের খোঁজে একাধিক কেন্দ্রীয় এজেন্সি তল্লাশি চালাচ্ছে।

ঘাতকদের দ্রুত খুঁজে বের করার লক্ষ্যে অনন্তনাগ পুলিশ একটি বড়সড় পুরস্কার ঘোষণা করেছে। পহেলগাঁও হামলায় যুক্ত জঙ্গিদের সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিতে পারলে ২০ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে, তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় কঠোরভাবে গোপন রাখা হবে বলেও পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে। এ বিষয়ে যোগাযোগের জন্য দুটি ফোন নম্বর ও একটি ইমেল আইডিও প্রকাশ করা হয়েছে।

ইতিমধ্যেই, পহেলগাঁও জঙ্গি হামলায় জড়িত সন্দেহে চার জঙ্গির ছবি প্রকাশ করেছে ভারত সরকার। এই চার জঙ্গি হলো- আদিল, আসিফ ফুজি, সুলেমান শাহ এবং আবু তালহা। এরা সবাই ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (টিআরএফ)-এর সদস্য। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মনে করছে, এই হামলার মূলচক্রী হলো সইফুল্লা খালিদ ওরফে সইফুল্লা কাসুরি, যে এই জঙ্গিগোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান মাথা। নিরাপত্তা বাহিনী দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যে কোনও মূল্যে এই সন্ত্রাসীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।