কাশ্মীরে জঙ্গি হামলায় ঝালদার আইবি অফিসার শহীদ! শ্রদ্ধা জানাতে ১২ ঘন্টা ‘বন্‌ধ’ পালিত

ভূস্বর্গ কাশ্মীরে ছুটি কাটাতে গিয়ে আর বাড়ি ফেরা হল না। জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারালেন পুরুলিয়ার ঝালদার কৃতি সন্তান, ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (আইবি) অফিসার মনীশ রঞ্জন মিশ্রা। এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ১২ ঘণ্টার বনধ পালিত হচ্ছে ঝালদায়।

ঝালদা নাগরিক মঞ্চ এবং ঝালদা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের ডাকা এই বনধে আপামর ঝালদাবাসী স্বতঃস্ফূর্তভাবে শামিল হয়েছেন। সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া এই বনধ চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। প্রিয় ‘মনীশ দা’-র মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ ঝালদার সমস্ত দোকানপাট ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান আজ বন্ধ রয়েছে। নিহত আইবি অফিসার তথা ঝালদার ‘ঘরের ছেলে’ মনীশ রঞ্জন মিশ্রার বাড়িতে সকাল থেকেই শোকাহত মানুষজনের ভিড় জমেছে। ঝালদা নাগরিক মঞ্চের কর্মকর্তারাও তাঁর বাড়িতে গিয়ে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে মনীশ রঞ্জন মিশ্রার কফিনবন্দি মরদেহ প্রথমে ঝাড়খণ্ডের রাঁচি বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। সেখানে সিআরপিএফ ক্যাম্পে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়। এরপর পুরুলিয়া জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে বিশেষ এস্কর্টে করে তাঁর নশ্বর দেহ ঝালদার পৈতৃক বাড়ির উদ্দেশ্যে নিয়ে আসা হচ্ছে। প্রশাসনের পদস্থ আধিকারিকরাও এই প্রক্রিয়ায় উপস্থিত রয়েছেন। ঝালদায় নিয়ে আসার পর সর্বস্তরের মানুষ তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন এবং এরপর স্থানীয় শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। শহিদ জওয়ানের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এদিন ঝালদায় উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এবং রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। এছাড়াও, স্থানীয় শাসক দলের নেতারাও সেখানে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।

ছোটবেলা থেকেই সকলের কাছে প্রিয় এবং অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন মনীশ। কর্মজীবনেও তিনি বিরাট সাফল্য অর্জন করেছিলেন। প্রথমে কাস্টম অফিসার হিসেবে কাজ শুরু করে, পরে একটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার হন। সবশেষে তিনি হায়দ্রাবাদে ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর ডিএসপি পদে কর্মরত ছিলেন এবং সেখানেই সপরিবারে থাকতেন।

পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে গত ১৫ তারিখ বারাণসীর উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন মনীশবাবু। সেখান থেকে ১৬ তারিখ তাঁরা কাশ্মীরে যান ছুটি কাটাতে। এই মর্মান্তিক হামলার ঘটনায় মনীশ বাবুর স্ত্রী জয়া মিশ্রা মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থার এতটাই অবনতি হয়েছিল যে তাঁকে পেহেলগাঁওয়ের একটি হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে থাকার পর তিনি এখন স্বামীর মরদেহ নিয়ে ঝালদায় ফিরছেন। ঝালদার এই কৃতী সন্তানের অকাল প্রয়াণে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।