বিডিওকে প্রাণনাশের হুমকি, গ্রেপ্তার TMC-র প্রাক্তন কার্যকরী সভাপতি-সহ তিনজন

পূর্ব বর্ধমান জেলার আউশগ্রাম-২ নম্বর ব্লকের বিডিও-র অফিসে ঢুকে তাঁকে হেনস্থা, মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের প্রাক্তন কার্যকরী সভাপতি সহ দলের তিন নেতার বিরুদ্ধে। আউশগ্রাম-২ ব্লকের বিডিও চিন্ময় দাস এই অভিযোগ তুলে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ বুধবার ভোরে বর্ধমান শহর থেকে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার দুপুরে আউশগ্রাম ২-এর বিডিও চিন্ময় দাসের সঙ্গে তাঁর অফিসে দেখা করতে যান সেই ব্লকের তৃণমূলের প্রাক্তন কার্যকরী সভাপতি অরূপ মির্ধা-সহ বেশ কয়েকজন অনুগামী। সেই সময় বিডিও চিন্ময় দাস একটি ভিডিয়ো কনফারেন্সে মিটিং করছিলেন। মিটিং চলায় তিনি প্রথমে দু-তিনজনকে ভিতরে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, তৃণমূলের প্রাক্তন কার্যকরী সভাপতি অরূপ মির্ধা-সহ প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন অনুগামী জোর করে বিডিও অফিসের ভেতরে ঢুকে পড়েন। শুধু তাই নয়, তারা বিডিও-কে হেনস্থা ও মারধরের চেষ্টার পাশাপাশি তাঁকে প্রাণনাশের হুমকিও দেয় বলে গুরুতর অভিযোগ করা হয়েছে।
জানা গেছে, ঘটনার সময় বিডিও অফিসে ভাল্কি অঞ্চলের উপপ্রধান সাদেরুল শেখ ও যুব কনভেনার সুমন ঘোষ উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ, তাঁরা বিডিওকে বাঁচাতে গেলে অভিযুক্তরা তাঁদেরকেও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে এবং মারধর করে। সেই সঙ্গে অভিযুক্তরা বন্দুকের বাট দিয়ে উপপ্রধান সাদেরুল শেখের মাথায় আঘাত করে বলে অভিযোগ। এর ফলে উপপ্রধান সাদেরুল শেখ গুরুতর আহত হন।
আউশগ্রাম ২-র বিডিও চিন্ময় দাস এই পুরো ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে আউশগ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার ভোরে অভিযুক্ত অরূপ মির্ধা, আসরুল হক মণ্ডল এবং সুকুর শেখকে বর্ধমান থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।