মেঘভাঙা বৃষ্টিতে জম্মু ও কাশ্মীরের এলো হড়পা বান, মৃত বহু, নিখোঁজ অনেকে, বিপর্যস্ত জনজীবন

রবিবার সকালের শান্ত পরিবেশে হঠাৎ নেমে আসা বিপর্যয়, যখন জম্মু ও কাশ্মীরের রামবানের ধর্মকুণ্ড এলাকা আকস্মিক বন্যায় ভেসে গেল। এই অপ্রত্যাশিত হড়পা বানে মুহূর্তের মধ্যে গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মর্মান্তিকভাবে, এই বন্যায় বেশ কয়েকজনের প্রাণহানি ঘটেছে, এবং এখনও পর্যন্ত বহু মানুষ নিখোঁজ। জলের তোড়ে ভেসে গেছে বহু ঘরবাড়ি, ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ব্যাপক। এছাড়াও, অসংখ্য মানুষ তাদের গৃহে আটকা পড়েছেন, যাদের উদ্ধারের জন্য জোরকদমে অভিযান চলছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, একটানা ভারী বর্ষণের ফলে এলাকার নালা ও খাল উপচে জল লোকালয়ে প্রবেশ করতে শুরু করে। এই জল দ্রুত গতিতে চেনাব সেতুর নিকটবর্তী ধর্মকুণ্ড গ্রামে ঢুকে পড়লে, মুহূর্তের মধ্যে গোটা গ্রাম প্লাবিত হয়। বন্যার জলের তীব্রতায় প্রায় ১০০টি ঘর সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে, এবং ২৫ থেকে ৩০টি ঘর আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু মানুষ তাদের ঘরবাড়িতে অসহায়ভাবে আটকে পড়েছেন, যাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনার জন্য উদ্ধারকর্মীরা প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন।
উদ্ধারকারী দল ইতিমধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে ৯০ থেকে ১০০ জন গ্রামবাসীকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে। এদিকে, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে রামবান জেলার ডেপুটি কমিশনার জনসাধারণকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন।
ডেপুটি কমিশনার তাঁর এক্স (X) হ্যান্ডেলে একটি পোস্টের মাধ্যমে লিখেছেন, “রামবান জেলায় খারাপ আবহাওয়া এবং ভারী বৃষ্টিপাতের পরিপ্রেক্ষিতে সকল জনগণকে সতর্ক থাকার এবং সুরক্ষা বিষয়ক পরামর্শগুলি মেনে চলার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।”
অন্যদিকে, বিজেপি নেতা এবং স্থানীয় সাংসদ জিতেন্দ্র সিং এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতা তুলে ধরেছেন। তিনি জানান যে, জম্মু ও কাশ্মীরের রামবান শহর ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় গত রাতভর প্রবল বৃষ্টিপাত, ভূমিধস এবং ঝড় হয়েছে। এর ফলে জাতীয় সড়কও বন্ধ হয়ে গেছে। অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, এই দুর্যোগে তিনজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু পরিবার তাদের মূল্যবান সম্পত্তি হারিয়েছেন।
বিজেপি নেতা আরও বলেন, “আমি জেলা প্রশাসক বসির-উল-হক চৌধুরীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। জেলা প্রশাসন দ্রুততার সাথে উদ্ধারকার্য শুরু করেছে, যা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। তাদের এই তৎপরতার ফলে অনেক মূল্যবান জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে।”
এই আকস্মিক বন্যা রামবানের শান্ত জনজীবনে এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে, যেখানে প্রকৃতির রুদ্রমূর্তি মানুষের জীবন ও সম্পদ কেড়ে নিয়েছে। বর্তমানে, নিখোঁজদের সন্ধান এবং আটকে পড়াদের উদ্ধার করাই প্রধান লক্ষ্য, পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।