“অমিত শাহকে সাধারণ মানুষ ক্ষমতা দিয়েছে, মমতা বলার কে?” মুখ্যমন্ত্রীকে কড়া আক্রমণ দিলীপ ঘোষের

মুর্শিদাবাদের ওয়াকফ আইন বিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যে হিংসার ছবি সামনে এসেছে, তার পিছনে বিএসএফ এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি ছিল, বাইরে থেকে লোক ঢুকিয়ে এই কাজ করানো হয়েছে এবং এটি একটি ‘প্রি-প্ল্যানড কমিউনাল রায়ট’। এমনকি, অমিত শাহ কখনও প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর এই অভিযোগের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ তথা রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষ। বৃহস্পতিবার সকালে নিউটাউনের ইকোপার্কে প্রাতঃভ্রমণে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তোলেন।

অমিত শাহকে আক্রমণ প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, “পার্টিতে মমতাকে কেউ মানে না। পার্টিতে চুলোচুলি হচ্ছে। তিনি কাকে আঙুল তুলছেন? কোথায় নেতাজি আর কোথায় পিঁয়াজি? অমিত শাহকে সাধারণ মানুষ ক্ষমতা দিয়েছে। মমতা বলার কে? খুব বেশি হলে দুটো সাংসদ কমবেশি করতে পারেন। যে লোকটা কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী আর গুজরাট থেকে অসম পর্যন্ত ঠাণ্ডা করে দিয়েছে তাঁকে নিয়ে এসব বলছেন। নিজের দিকে তাকান। প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কি করছেন সেটা দেখার জন্য সারা দেশের মানুষ আছেন। আপনাকে বাংলার মানুষ দেখছে।”

যোগী আদিত্যনাথকে ‘চরম ভোগী’ বলে মুখ্যমন্ত্রীর কটাক্ষের প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, “এই যে মিথ্যা কথা, এটাই একদিন ওনার সর্বনাশের কারণ হবে। উনি অমৃত কুম্ভকে মৃত্যুকুম্ভ বলেছেন। উনি হিন্দু ধর্মকে গন্দা ধর্ম বলেছেন। মানুষ এগুলি ভুলে যাবেন? যোগী সন্ন্যাসী এবং সর্বত্যাগী। তার পায়ের যোগ্য উনি হতে পারবেন না। উনি যত পাপ করেছেন আর যোগী জীবনে যা করেছেন, এই কথা বলার এক কণা যোগ্যতা ওনার নেই। দ্বিগুণের বেশি জনসংখ্যা উত্তরপ্রদেশে। সেখানে উনি যা করে দিয়েছেন সেই যোগ্যতা আপনার নেই। ভগবান আপনাকে সুমতি দিক। আপনার কথাবার্তা ঠিক হোক।”

ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশের প্রশংসার বিষয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “উনি প্রশংসা করেন কারণ পুলিশ কিছু করে না। আমাদের নবান্ন অভিযানে পুলিশ গুলি চালিয়েছে বলে প্রশংসা করেছেন। ওখানে পুলিশ কিছু করেনি বলে প্রশংসা করেছেন। ডায়মন্ড হারবারের পুলিশ সন্ত্রাসবাদীদের থেকেও খারাপ। বিজেপি করলে তার বাড়ি ঘর দোকান ভাঙে। আমাদের লোকেরা এখনও বাড়ি ঢুকতে পারেনি। কারও ঢোকার ক্ষমতা নেই। উনি যদি মনে করেন এটাই সারা বাংলার মডেল, সেটা আমরা মেনে নেব না।”