“ফের যখন আসবে আবার শেখাব…”-চিকিৎসা করাতে আসা শিশুকে সিগারেট খাওয়াল ডাক্তার?

উত্তরপ্রদেশের কুথৌন্দের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এক মর্মান্তিক ও নিন্দনীয় ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, সেখানে এক চিকিৎসক পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধূমপান করতে বাধ্য করেছেন। ঠান্ডা কমানোর চিকিৎসা করাতে আসা শিশুটির সঙ্গে এমন অমানবিক আচরণের জেরে অভিযুক্ত চিকিৎসককে বদলি করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে।
অভিযুক্ত চিকিৎসকের নাম সুরেশ চন্দ্র। এই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে চিফ মেডিক্যাল অফিসার নরেন্দ্র দেব শর্মা জানিয়েছেন, ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপাতত তাকে অন্য স্থানে বদলি করা হয়েছে।
এই ঘটনার একটি ভিডিও সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, চিকিৎসক সুরেশ চন্দ্র নিজেই শিশুটির মুখে সিগারেট ধরিয়ে দিচ্ছেন। শুধু তাই নয়, তিনি সেই সিগারেটে আগুন ধরিয়ে শিশুটিকে সেটি টানতে বলছেন। ভিডিওতে আরও দেখা যায়, শিশুটি যখন সিগারেট টানতে না পেরে সেটি নিভিয়ে ফেলে, তখন চিকিৎসক বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, “ফের ফুঁ দিচ্ছে!” এমনকি, শিশুটিকে ধূমপান করতে উৎসাহিত করতে এক পর্যায়ে চিকিৎসক নিজেই সিগারেট হাতে নিয়ে টানতে দেখা যায়। এরপর তিনি আবারও শিশুটির মুখে সিগারেট ধরিয়ে দিয়ে বলেন, “আজকের জন্য এতটা ট্রেনিং যথেষ্ট। ফের যখন আসবে আবার শেখাব।”
এই ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নেটিজেনরা একজন চিকিৎসকের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং অমানবিক আচরণের তীব্র নিন্দা করছেন। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, একজন শিশুর সঙ্গে এমন জঘন্য কাজ একজন চিকিৎসক কীভাবে করতে পারেন।
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের কাছে অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অতিরিক্ত CMO এসডি চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জানা গেছে, খুব শীঘ্রই রাজ্য সরকারের কাছে এই ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে। স্থানীয় বাসিন্দারা এবং সাধারণ মানুষ অভিযুক্ত চিকিৎসকের শুধুমাত্র বদলি নয়, কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।