OMG! ওয়ার্ডেনের জামা না কাঁচায় রোগীকে নির্মম মারধর, তদন্তে নামলো পুলিশ

ওয়ার্ডেনের জামাকাপড় ও টয়লেট পরিষ্কার করতে অস্বীকার করায় এক বেসরকারি পুনর্বাসন কেন্দ্রের রোগীকে নির্মমভাবে মারধরের অভিযোগ উঠেছে সেখানকার কর্মীদের বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে বেঙ্গালুরুর উপকণ্ঠে নেলামঙ্গলা গ্রামীণ পুলিশ এলাকার একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে। ঘটনার বীভৎসতা প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। বেঙ্গালুরু গ্রামীণ পুলিশ এই ঘটনায় ওয়ার্ডেন এবং সেই কেন্দ্রের মালিক উভয়ের বিরুদ্ধেই মামলা দায়ের করেছে। জানা গিয়েছে, নেলামঙ্গলা থানায় একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করা হয়েছে।

সূত্রের খবর, বেঙ্গালুরু শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ওই বেসরকারি পুনর্বাসন কেন্দ্রে এক রোগীর উপর নির্মম অত্যাচারের একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটি ওই কেন্দ্রের একটি ক্লোজড-সার্কিট টেলিভিশন (সিসিটিভি) ক্যামেরার ফুটেজ। সেখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, পুনর্বাসন কেন্দ্রের একটি ঘরে আটকে রেখে অভিযুক্ত কর্মীরা এক রোগীকে বেদম মারধর করছেন। ভিডিওতে দেখা যায়, এক অভিযুক্ত ব্যক্তি হাতে লাঠি নিয়ে ওই রোগীর উপর একের পর এক আঘাত হানছেন এবং অন্যান্য কর্মীরা পাশে দাঁড়িয়ে সেই দৃশ্য দেখছেন। এমনকি, ভিডিওটিতে আরও দেখা যায়, প্রথম অভিযুক্তের মারধরের পর অন্য একজন কর্মী এগিয়ে এসে ফের ওই রোগীকে লাঠি দিয়ে মারতে শুরু করেন।

বেসরকারি পুনর্বাসন কেন্দ্রে এক অসহায় রোগীর উপর এহেন নৃশংস অত্যাচারের ভিডিও ফুটেজ দেখার পর বেঙ্গালুরু গ্রামীণ পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। গ্রামীণ বেঙ্গালুরুর পুলিশ সুপার সি কে বাবা এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সেখানকার সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে, একজন রোগীকে কর্মীরা অত্যন্ত নৃশংসভাবে আক্রমণ করছেন। পুলিশ সুপার বলেন, ‘এই ঘটনাটি একটি বেসরকারি পুনর্বাসন কেন্দ্রে ঘটেছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, সেখানে থাকতে আসা একজন ব্যক্তিকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। ফুটেজটি নেলামঙ্গলা গ্রামীণ পুলিশ সীমানার আওতাধীন একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রের।’

পুলিশ সূত্রে খবর, এই বর্বর ঘটনার পর বেঙ্গালুরু গ্রামীণ পুলিশ অবিলম্বে সেই পুনর্বাসন কেন্দ্রে অভিযান চালায় এবং ওয়ার্ডেন ও কেন্দ্রের মালিক—এই দুজনের বিরুদ্ধেই ভারতীয় দণ্ডবিধির প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা দায়ের করেছে। নেলামঙ্গলা থানায় এই বিষয়ে একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। ঘটনাটি পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলির নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে।