OMG! পিণ্ডদানের ১৫ বছর পরে ফিরে এল ছেলে, দেখে আনন্দের অশ্রু ঝরলো মায়ের চোখে

যে ছেলেকে মৃত ধরে নিয়ে ১০ বছর আগে পিণ্ডদান করা হয়ে গিয়েছিল, নিখোঁজ হওয়ার ১৫ বছর পর সেই সন্তানকেই ফিরে পেলেন এক অসহায় মা। ঘটনাটি বিহারের গণ্ডগ্রামের। যেখানে ১৫ বছর আগেও শিক্ষার আলো তেমন পৌঁছয়নি। দেহাতি মানুষজন তখন অন্ধ কুসংস্কারে আচ্ছন্ন ছিলেন। গ্রামের মাতব্বরদের চাপে ছেলেকে ঠিকমতো খোঁজাখুঁজি না করে, সে মারা গিয়েছে ধরে নিয়ে পুত্রশোকে পাথর মা বাধ্য হয়েছিলেন ছেলের পিণ্ডদান করতে। সেই ছেলে সাগর মণ্ডলকেই আরও ১০ বছর পর খুঁজে পেলেন বিহারের ভাগলপুর জেলার কহলগাঁও থানার বংশীপুর পঞ্চায়েতের গণ্ডগ্রাম দেওরি মহেশপুরের ঝাজী দেবী।
দিনমজুরির কাজ করে সংসার চালাতেন ঝাজী দেবীর স্বামী বদ্রীনাথ মণ্ডল। ক্ষেতেই বজ্রপাতে তাঁর অকালমৃত্যু হয়। ছোট ছেলে সাগরের তখন খুবই অল্প বয়স। কোলের সন্তানকে নিয়ে অথৈ সাগরে পড়েন মা। বাচ্চাটাকে খেতের পাশে গামছার দোলনায় শুইয়ে, কাদামাটিতে হাঁটু ডুবিয়ে ধান রোয়ার কাজ করতেন ঝাজী। এমনি করে যখন সাগরের বছর ছয়েক বয়স, একদিন আচমকা সে নিখোঁজ হয়ে যায়। গ্রামের লোকেরা মাঝে মাঝে নানা কথা বলত। কেউ বলত, ঝাজীর ছেলেকে নাকি মাঝেমধ্যে কোথাও দেখা যায়! গ্রামের মহিলাদের অভিযোগ ছিল, ঝাজীর ছেলের বন্ধুরা নাকি তাকে মাঠে দেখতে পায়, আবার সে উধাও হয়ে যায়!
আসলে ঝাজীর ছেলে মারা গিয়েছে, পিণ্ড না দিলে গ্রামের অন্য লোকেদের বিপদ হবে, এমনটাই বোঝান গ্রামবাসীরা। তাঁদের চাপে বাধ্য হয়ে গয়াতে গিয়ে স্বামী বদ্রীনাথের সঙ্গে ছেলে সাগরেরও পিণ্ড দেন ঝাজী দেবী। প্রায় ১০ বছর কেটে গেছে সেই ঘটনার। সম্প্রতি এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সম্পাদিকা আশা মাজী খবর পান, সাগর মণ্ডল নামে ২১ বছর বয়সের এক যুবক হাওড়া জেলা হাসপাতালের মানসিক রোগীদের জন্য তৈরি চিকিৎসাকেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে ভর্তি রয়েছে। আশা মাজী যোগাযোগ করেন ওয়েস্ট বেঙ্গল রেডিও ক্লাব তথা হ্যাম রেডিওর সম্পাদক অম্বরীশ নাগবিশ্বাসের সঙ্গে। হ্যাম রেডিওর নিজস্ব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র।
অবশেষে বিহারের ভাগলপুর জেলার ভানসিপুর ব্লকের দেওরি মহেশপুর গ্রামে সাগরের মা, প্রায় পঁয়ষট্টির ঝাজী দেবীর খোঁজ মেলে। তাঁকে সাগরের ছবি দেখানো হলে ঝরঝর করে কেঁদে ফেলেন তিনি। তাঁর ছেলে সাগর বেঁচে আছে, আর পাশের রাজ্য বাংলার হাওড়ার হাসপাতালে সুস্থ আছে জেনে আফশোসে কপাল চাপড়াতে থাকেন ঝাজী। স্বেচ্ছাসেবী আশা জানান, হাওড়া পুলিশ প্রায় দশ বছর আগে জখম অবস্থায় উদ্ধার করে সাগরকে হাওড়া জেলা হাসপাতালে ভর্তি করান। কোনও দুর্ঘটনার ফলে তার স্মৃতিশক্তি লোপ পেয়েছিল। কোনও প্রশ্ন করলেই সে শুধু একগাল হাসে, তারপর চুপ হয়ে যায়। শনিবার এত বছর পর মাকে দেখে তার আনন্দ আর ধরে না। ছেলেকে ফিরে পেয়ে ঝাজী দেবীও কান্নায় ভেঙে পড়েন। শনিবারই মা ও ছেলে পৌঁছে গিয়েছেন নিজেদের গ্রামের বাড়িতে।