“উসকানিমূলক কথা বলতে আসিনি, সর্বধর্ম সমন্বয়ের কথা বলছি” ওয়াকফ আইন নিয়ে কেন্দ্রকে তোপ মুখ্যমন্ত্রীর

নেতাজি ইন্ডোরে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও বুদ্ধিজীবীদের সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রীতির বার্তা দেন। তিনি বলেন, “আমি এখানে উস্কানিমূলক কথা বলতে আসিনি, সর্বধর্ম সমন্বয়ের কথা বলছি।” ওয়াকফ আইন নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, “আমার যেমন কারও সম্পত্তি দখল করার ক্ষমতা নেই, তেমনই কোনও দল বা সরকারেরও কোনও ব্যক্তি বা ধর্মীয় সম্প্রদায়ের আইন দখলের অধিকার নেই।” তাঁর দাবি, ওয়াকফ বোর্ডের অনেক সম্পত্তিতে হিন্দুদের দান রয়েছে এবং বোর্ডে হিন্দুরাও সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

কেন্দ্রীয় সরকারের কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ক্ষমতায় এসে কটা ছেলেকে চাকরি দিয়েছেন? দাঙ্গা বাধিয়ে ওষুধের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। আমি যা বলি সামনে থেকে বলি, পিছনে বলি না।”

মুর্শিদাবাদের সাম্প্রতিক ঘটনায় সংবাদমাধ্যমের একাংশের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “মুর্শিদাবাদের ঘটনায় যে আটটি ভিডিও ও ছবি বাংলার বলে দেখানো হয়েছে, সেগুলি ভুয়ো। বাইরের রাজ্যের ছবিকে বাংলার বলে চালানো হচ্ছে।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, “আমরা সর্বধর্ম সমন্বয়ে বিশ্বাস করি। রামকৃষ্ণ, রবীন্দ্র, নজরুল, নবজাগরণের জন্মদাতাদের আমরা সম্মান করি। হাত জোড় করে বলছি, যারা অশান্তি করতে চায়, তাদের বাতিল করুন। বাংলায় দুর্গা পুজো থেকে সরস্বতী পুজো সবই হয়। অথচ বিজেপি বলে, আমরা নাকি পুজো করতে দিই না।”

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর অন্তর্ধানের রহস্য আজও অমীমাংসিত থাকা লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, গান্ধীজি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে একসময় কলকাতায় গান্ধী ভবনে ছিলেন। রবীন্দ্রনাথ ‘বাংলার মাটি, বাংলার জল’ গেয়েছিলেন। সব ধর্মের মানুষ দেশ স্বাধীন করার জন্য লড়াই করেছেন। আমাদের সংবিধান অনুযায়ী, যে কোনও ধর্মের মানুষ তাঁদের সম্পত্তির অধিকার রক্ষা করতে পারেন।

বাংলাদেশের সঙ্গে ইউনুসের গোপন বৈঠক নিয়ে মোদীর সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দেশের ভাল হলে বৈঠকে আপত্তি নেই।” তবে, বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশ হলে বিএসএফ কেন তা আটকাতে পারছে না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। বিজেপি বাইরে থেকে গুন্ডা এনে রাজ্যে অশান্তি পাকাতে চাইছে বলেও অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী।