“সরকারি নির্দেশন না মানায়…?”-হার্ভার্ডের ২ বিলিয়নের বেশি ডলারের অর্থায়ন স্থগিত করলেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত দুই বিলিয়নের বেশি ডলারের অর্থায়ন স্থগিত করেছেন। হোয়াইট হাউজ হার্ভার্ডের কাছে ইহুদি বিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য বেশ কিছু দাবি জানিয়েছিল, যা প্রত্যাখ্যান করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
হোয়াইট হাউজের দাবির মধ্যে ছিল নিয়োগ, ভর্তি এবং পাঠদানে পরিবর্তন আনা। তবে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, হোয়াইট হাউজ তাদের ‘কমিউনিটিকে নিয়ন্ত্রণ’ করার চেষ্টা করছে।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ট্রাম্প ও তার সরকার অর্থায়ন স্থগিতের হুমকি দিয়ে এলিট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করছেন।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় হোয়াইট হাউজের শর্ত প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, সরকার তাদের কার্যক্রমের ওপর অন্যায় হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করছে।
নিউইয়র্ক টাইমস-এ প্রকাশিত হোয়াইট হাউজের চিঠিতে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থায়ন পেতে ‘বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের এবং নাগরিক অধিকার’ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়।
হোয়াইট হাউজের দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- আমেরিকান মূল্যবোধের প্রতি ‘শত্রুতাপূর্ণ’ শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে সরকারকে রিপোর্ট করা।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগে ‘দৃশ্যমান বৈচিত্র্য’ নিশ্চিত করা।
- ইহুদি বিদ্বেষ ছড়ায় এমন বিভাগগুলোতে সরকার সমর্থিত বাহ্যিক কমিটি নিয়োগ করা।
- ফ্যাকাল্টি স্টাফদের চৌর্যবৃত্তি পরীক্ষা করা।
- ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনে আইন লঙ্ঘন হলে ব্যবস্থা নেওয়া।
হার্ভার্ডের প্রেসিডেন্ট অ্যালান গার্বার হোয়াইট হাউজের দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, “আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় তার স্বাধীনতা সরকারের কাছে অর্পণ করবে না।” তিনি আরও বলেন, কিছু দাবি ইহুদি বিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য করা হলেও, বেশিরভাগ দাবিই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য করা হয়েছে।
এই ঘটনাটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থায় সরকারের হস্তক্ষেপ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্বায়ত্তশাসন নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।