কেরালার জঙ্গলে রহস্যমৃত্যু আদিবাসী দম্পতির, কারণ ঘিরে ধোঁয়াশা

কেরালার আথিরাপিল্লী জঙ্গলে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। গভীর অরণ্যের মনোরম পরিবেশে, যেখানে সবুজ প্রকৃতি আপন মহিমায় বিরাজমান, সেখানে হাতির পালের অবাধ বিচরণ অস্বাভাবিক নয়। এই জঙ্গলেই জীবনধারণ করেন একটি আদিবাসী গোষ্ঠী, যাদের সরকারি অনুমতি রয়েছে বনের অভ্যন্তরে প্রবেশের। বন তাঁদের পরিচিত, তাঁদের জীবনধারণের উৎস – কাঠ থেকে ফলমূল সবই তাঁরা সংগ্রহ করেন প্রকৃতির উদার ভাণ্ডার থেকে।

সম্প্রতি, এই গোষ্ঠীরই এক সদস্য হাতির হানায় প্রাণ হারান। এরপর গভীর জঙ্গলে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে যান গোষ্ঠীর কয়েকজন নারী-পুরুষ।

ঠিক সেই সময়ে, জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল একদল হাতি। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হাতিরা তাঁদের দিকে তেড়ে আসেনি। তবে হাতির পালটিকে দেখেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন আদিবাসী দলের সদস্যরা। প্রাণ বাঁচাতে তাঁরা দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে ছুটতে শুরু করেন। সেই দলে ছিলেন অম্বিকা ও সতীশ নামের এক দম্পতি। গভীর জঙ্গলের মধ্যে তাঁরাও প্রাণপণে দৌড়াতে থাকেন।

পরবর্তীতে তাঁদের খোঁজ করতে গিয়ে করুণ পরিণতি সামনে আসে। অম্বিকার দেহ উদ্ধার হয় জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া একটি নদীতে। আর সতীশের মৃতদেহ পাওয়া যায় বনের অন্য একটি অংশে। তবে তাঁদের দুজনেরই মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

দেহ উদ্ধার হলেও, ঠিক কী কারণে অম্বিকা ও সতীশের প্রাণ গেল, তা নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে। হাতির হানায় তাঁদের মৃত্যু হয়েছে, নাকি জঙ্গলের অন্য কোনও বিপদ তাঁদের কেড়ে নিয়েছে, তা জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছে পুলিশ। তার আগে পর্যন্ত এই ঘটনা এক গভীর রহস্যের চাদরে ঢাকা।

এই অপ্রত্যাশিত ও মর্মান্তিক ঘটনাটি আথিরাপিল্লী জঙ্গলের শান্ত প্রকৃতিতে শোকের ছায়া ফেলেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও বন দফতর ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পরই হয়তো জানা যাবে, কেন অকালে ঝরে গেল দুটি তরতাজা প্রাণ।