হাওড়ায় নিরাপত্তা জোরদার, স্পর্শকাতর এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের টহল

বাংলার বিভিন্ন জেলায় সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনার পর হাওড়া জেলাতেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। হাওড়া সিটি পুলিশের অধীনে শহরের বেশ কিছু সংবেদনশীল এলাকায় সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (সিআইএসএফ), কমব্যাট ফোর্স এবং র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের (র্যাফ) জওয়ানরা যৌথভাবে টহল দিচ্ছেন। এর মূল উদ্দেশ্য হল, এলাকায় কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা অশান্তি যাতে না ঘটে, তা নিশ্চিত করা।
এছাড়াও, হাওড়ার বাঁকড়া এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা রুট মার্চ করেছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই রুট মার্চের ফলে এলাকার সাধারণ মানুষজনের মধ্যে নিরাপত্তা বোধ যেমন বাড়বে, তেমনই তাঁরা যে কোনও ধরনের গুজব বা উস্কানিমূলক খবরের বিষয়ে আরও সজাগ থাকবেন। পুলিশের দাবি, এই পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই এলাকাবাসীর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করেছে এবং কোনও প্রকার বিশৃঙ্খলা বা গুজব ছড়ানোর সম্ভাবনা কমিয়ে এনেছে।
হাওড়া সিটি পুলিশের কমিশনার প্রবীণ কুমার ত্রিপাঠী এই বিষয়ে বলেন, “হাওড়া জেলার সাধারণ মানুষ বরাবরই শান্তিপ্রিয় এবং উৎসবমুখর। রামনবমী এবং হনুমান জয়ন্তীর মতো ধর্মীয় উৎসবগুলিও এখানে প্রতি বছর শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়। তবুও, এলাকার জনগণকে সজাগ ও সচেতন রাখার জন্য এবং কোনও প্রকার গুজব বা ভুল তথ্যের মাধ্যমে অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রুখতে সিআইএসএফ, র্যাফ এবং অন্যান্য পুলিশ বাহিনী নিয়মিত রুট মার্চ করছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা জনসাধারণকে অনুরোধ করছি, তাঁরা যেন কোনও প্রকার গুজবে কান না দেন। যদি কোনও ধরনের অশান্তির খবর পাওয়া যায়, তবে আমরা দ্রুত সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হব। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হল হাওড়া শহরের শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা।”
পুলিশ কমিশনার আরও উল্লেখ করেন, “রাজ্যের অন্য কোনও প্রান্তে যখনই কোনও রকম অশান্তির খবর আসে, আমাদের পুলিশ বাহিনী সঙ্গে সঙ্গেই সতর্ক হয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকে। আমরা সকলের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিতে চাই যে, কোনও রকম ভিত্তিহীন বা ভুল তথ্যের ফাঁদে যেন তাঁরা পা না দেন।”
হাওড়া পুলিশ শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে সবরকম প্রস্তুতি নিচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনও রকম ফাঁক রাখা হবে না বলে পুলিশের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের এই টহলদারি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আস্থা ও নিরাপত্তার অনুভূতি যোগাবে বলে আশা করা হচ্ছে।