রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পরে রয়েছে মৃতদেহ, রাশিয়ার মিসাইল হামলায় মৃত কমপক্ষে ২১ নাগরিক

তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের আবহে ফের রক্ত ঝরল ইউক্রেনের মাটিতে। রবিবার উত্তর ইউক্রেনের সুমি শহরে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলায় কমপক্ষে ২১ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন। এই হামলায় আরও ৮৩ জন গুরুতরভাবে জখম হয়েছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
হামলার ভয়াবহতা তুলে ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে জেলেনস্কি লেখেন, “শুধুমাত্র দুর্বৃত্তরাই এমন নারকীয় হামলা চালাতে পারে, যারা নিরীহ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়।” তিনি একটি মর্মান্তিক ভিডিও পোস্ট করেন, যেখানে রাস্তায় সারি সারি মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একটি বাস দুমড়ে-মুচড়ে গিয়েছে এবং একটি গাড়ি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। জেলেনস্কি আরও উল্লেখ করেন, “রবিবার যখন মানুষজন চার্চে যাচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময় এই কাপুরুষোচিত হামলা চালানো হয়েছে।”
ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী ইহোর লিমেনকো জানান, হামলার সময় সাধারণ মানুষ রাস্তায় ছিলেন। কেউ বাসে ছিলেন, কেউ ব্যক্তিগত গাড়িতে। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে নিকটবর্তী বহুতলগুলিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই হামলার বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এই নৃশংস হামলার নিন্দা করে জেলেনস্কি রাশিয়াকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, যতক্ষণ না আগ্রাসী রাশিয়ার উপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে, ততক্ষণ শান্তি স্থাপন অসম্ভব। শুধুমাত্র আলোচনার মাধ্যমে ব্যালিস্টিক মিসাইল ও বোমা বর্ষণ বন্ধ করা যাবে না। রাশিয়ার উপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার জন্য তিনি আমেরিকা ও ইউরোপের কাছে জোরালো আবেদন জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আমেরিকা ইতিমধ্যেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইক সেন্ট পিটার্সবার্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন। এই বৈঠকের দু’দিন পরই ইউক্রেনের বেসামরিক নাগরিকদের উপর এই ভয়াবহ হামলা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।