“বাড়িতে আগুন, মারধর…'”-হামলার ভয়ে মুর্শিদাবাদে বাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছে বহু মানুষ

র্শিদাবাদের সাম্প্রতিক হিংসার রেশ এখনও কাটেনি। আপাত শান্তির আড়ালে চাপা রয়েছে ঘরছাড়া মানুষের হাহাকার আর পোড়া ভিটের স্মৃতি। মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে আসা প্রায় ৫০০ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন মালদার পারলালপুর এলাকার একটি স্কুলে। এদের মধ্যে অধিকাংশই মহিলা ও শিশু।

জীবন হাতে নিয়ে নৌকায় পারাপার

ধুলিয়ান থেকে পালিয়ে আসা এক আতঙ্কিত বাসিন্দা জানালেন, “আমাদের জলের ট্যাঙ্কে বিষ মেশানো হয়েছে। একের পর এক ঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। নিজেদের জীবন বাঁচাতে আমরা নৌকায় করে নদী পেরিয়ে মালদায় এসে আশ্রয় নিয়েছি।” বর্তমানে এই মানুষগুলো মালদার পারলালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষগুলোতে অস্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। তাদের সঙ্গে রয়েছে ছোট ছোট শিশু, সদ্যোজাত এবং বৃদ্ধ আত্মীয় পরিজনেরা।

‘ঘর নেই, রেশন নেই’

চোখের জল মুছতে মুছতে এক মহিলা বললেন, “ধুলিয়ানে আমার সাজানো সংসার ছিল। আজ আর কিছুই নেই। চোখের সামনে আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে সবকিছু। আমাদের মারধর করা হয়েছে। খাবার নেই, রেশন নেই। তাই বাধ্য হয়েই আমরা নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে এখানে এসে উঠেছি।”

আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তায় দিনযাপন, মিলছে সামান্য চিকিৎসা

স্থানীয় বাসিন্দারা এই অসহায় মানুষগুলোর পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। সাধ্যমত খাদ্য ও আশ্রয় দিয়ে তারা সাহায্য করছেন। পারলালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে অস্থায়ী শরণার্থী শিবিরে স্থানীয় চিকিৎসকরা এসে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছেন। তবে ঘরছাড়া হওয়ার আতঙ্ক এখনও তাদের তাড়া করে বেড়াচ্ছে। শরণার্থীদের অভিযোগ, হামলাকারীদের মধ্যে অনেকেই নাবালক, যাদের বয়স ১৫ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

এই মানুষগুলো এখনও জানেন না কবে তারা তাদের নিজেদের গ্রামে ফিরতে পারবেন। কবে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে তাদের পোড়া ভিটে। স্থানীয় সূত্রে খবর, পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও তাদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট আশ্বাস দেওয়া হয়নি।

পারলালপুরের এই ছোট্ট স্কুলটি যেন এক করুণ চিত্রপট—যেখানে নিজেদের দেশেই উদ্বাস্তুর মতো অসহায় জীবন কাটাচ্ছে মুর্শিদাবাদের এই ঘরছাড়া মানুষগুলো। ছিন্নমূল জীবনের এক কঠিন বাস্তবতার সাক্ষী মালদার এই প্রান্ত।

Editor001
  • Editor001