শেখ হাসিনা ও তাঁর বোনের বিরুদ্ধে এবার জারি গ্রেফতারি পরোয়ানা, নির্দেশ দিলো আদালত

বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ফের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করল ঢাকা মেট্রোপলিটন আদালত। এই নিয়ে একাধিকবার তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হল। এবার হাসিনা ছাড়াও তাঁর বোন শেখ রেহানা, ব্রিটিশ সাংসদ রিজওয়ানা-সহ মোট ৫৩ জনের বিরুদ্ধে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রবিবার ঢাকার অ্যান্টি কোরাপশন কমিশনের (দুদক) তরফে তিনটি পৃথক চার্জশিট পেশ করা হয়। এরপরই ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক জাকির হুসেন এই গ্রেফতারি পরোয়ানার নির্দেশ দেন। বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংবাদপত্র ‘ঢাকা ট্রিবিউন’-এ এই খবরটি প্রকাশিত হয়েছে।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, গ্রেফতারি সংক্রান্ত বিস্তারিত রিপোর্ট আগামী ২৭শে এপ্রিলের মধ্যে জমা দিতে হবে। তবে আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মামলার অভিযুক্তরা বর্তমানে পলাতক।
বাংলাদেশের আরেক জনপ্রিয় দৈনিক ‘প্রথম আলো’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের হওয়া তিনটি পৃথক মামলায় এই ৫৩ জনের বিরুদ্ধে সম্প্রতি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুর্নীতি দমন কমিশন। রবিবার ওই অভিযোগপত্র আমলে নেওয়ার জন্য শুনানির দিন ধার্য ছিল। অভিযুক্তরা আদালতে উপস্থিত না থাকায় বিচারক তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।
এর আগে গত ১০ই এপ্রিল, একই আদালত প্লট দুর্নীতি সংক্রান্ত অন্য একটি মামলায় শেখ হাসিনা, তাঁর কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল-সহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল।
উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনে গুলি করে হত্যা-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঢাকার বিভিন্ন আদালত ও থানায় তিন শতাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছু মামলার শুনানিও শুরু হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে একাধিক মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ই অগাস্ট শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হন এবং সেই থেকে তিনি ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মহম্মদ ইউনূস বর্তমানে বাংলাদেশের সরকার পরিচালনা করছেন। বিভিন্ন মহল থেকে নির্বাচিত সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় আনার দাবি জানানো হলেও, জাতীয় নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে তা এখনও পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। এই পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনাসহ ৫৩ জনের বিরুদ্ধে নতুন করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।