“SSC-ইস্যু থেকে নজর ঘোরাতে…”-মুর্শিদাবাদকাণ্ডে রাজ্য সরকারকে আক্রমণ নওশাদ সিদ্দিকীর

রাজ্যে ২৬ হাজার চাকরি বাতিল এবং সেই বিষয়ে সরকারের নীরবতা নিয়ে যখন যোগ্য ও অযোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে ওয়াকফ বিল বাতিলের দাবিতে রাজ্যজুড়ে মুসলিম সমাজের বিক্ষোভ পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। তিনি সরাসরি অভিযোগের আঙুল তুললেন রাজ্য সরকারের দিকে। নওশাদ সিদ্দিকীর দাবি, চাকরিহারাদের বিক্ষোভের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু থেকে মানুষের মনোযোগ সরাতে সরকার রাজ্যে বিশৃঙ্খলার পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে।
নওশাদ সিদ্দিকী বলেন, “আমার সন্দেহ হচ্ছে রাজ্যে যেভাবে যোগ্য অযোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের আলাদা করতে না পারার জন্য ২৬ হাজারের মতো চাকরি বাতিল হয়েছে। এই বিষয়ে রাজ্যের যিনি প্রধান আছেন, যিনি শিক্ষা দফতরের মন্ত্রী আছেন বা এসএসসি বা পর্ষদ ঠিকঠাক জবাব দিতে পারছে না। মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে। এই অ্যাঙ্গেলটাকে যদি ঘুরিয়ে দেওয়া যায় তাহলে ধর্ম ধর্ম নিয়ে মানুষ আলোচনা করবে। এইরকম কোনও সুড়সুড়ি থাকতে পারে।”
উল্লেখ্য, ওয়াকফ বিল বাতিলের দাবিতে গোটা দেশজুড়ে মুসলিম সমাজ প্রতিবাদে নেমেছে। এর আঁচ এসে পড়েছে বাংলাতেও। মুর্শিদাবাদ জেলায় এই প্রতিবাদ রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ঝামেলার খবর পাওয়া গেছে। অবরোধ করা হয়েছে ট্রেন চলাচল, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সরকারি সম্পত্তি এবং হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশ কর্মীরাও। এই পরিস্থিতিতে কলকাতা হাইকোর্ট মুর্শিদাবাদে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার নির্দেশ দিয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে নওশাদ সিদ্দিকী গোটা ঘটনার পিছনে কোনও রাজনৈতিক চক্রান্ত থাকতে পারে বলে মনে করছেন। তিনি বলেন, “আমাদের রাজ্যে একটা রাজনৈতিক দল আছে, যারা মেরুকরণের রাজনীতি করতে সিদ্ধহস্ত। মেরুকরণ করে তারা ক্ষমতায় আসতে চাইছে।” মুর্শিদাবাদের ঘটনা প্রসঙ্গে রাজ্য সরকার ও প্রশাসনকে কাঠগড়ায় তুলে তিনি আরও বলেন, “পুলিশ সক্রিয় থাকলে আজকে মুর্শিদাবাদের এই ঘটনা ঘটত না।”
নওশাদ সিদ্দিকী বাংলার সম্প্রীতি যাতে কোনোভাবে নষ্ট না হয় সেই বার্তাও দিয়েছেন। তবে চাকরিহারাদের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন চাপা দিতে এবং মানুষের দৃষ্টি অন্য দিকে ঘোরাতেই ওয়াকফ ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজ্যে অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা হচ্ছে কিনা, এই প্রশ্ন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। রাজ্য সরকার বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ওয়াকফ বিলের প্রতিবাদ এবং চাকরিহারাদের ক্ষোভের আগুন যে রাজ্যে একটি চাপা উত্তেজনা তৈরি করেছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। এই পরিস্থিতিতে আগামী দিনে রাজ্য কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।