মুম্বই হামলার মূল চক্রী জঙ্গি রানাকে ১৮ দিনের হেফাজতে নিল NIA,করা হবে জিজ্ঞাসাবাদ

২০০৮ সালের ২৬/১১ মুম্বই হামলার অন্যতম চক্রী তাহাউর রানাকে অবশেষে হেফাজতে নিল ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। বৃহস্পতিবার আমেরিকা থেকে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে ভারতে প্রত্যর্পণ করা হয়। প্রত্যর্পণের পরই এনআইএ-র একটি বিশেষ দল রানাকে গ্রেফতার করে এবং সন্ধ্যায় তাকে এনআইএ-র বিশেষ আদালতে হাজির করানো হয়। শুনানি শেষে আদালত রানাকে ১৮ দিনের এনআইএ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ একটি বিশেষ বিমানে করে ৬৩ বছর বয়সী তাহাউর রানাকে দিল্লিতে নিয়ে আসা হয়। বিমানবন্দরে অবতরণের পরই এনআইএ কর্মকর্তারা তাকে নিজেদের হেফাজতে নেন। আজ শুক্রবার থেকে এনআইএ কর্মকর্তারা রানাকে দফায় দফায় জেরা করবেন বলে জানা গিয়েছে। এনআইএ আদালতের কাছে রানাকে ২০ দিনের পুলিশি হেফাজতের জন্য আবেদন জানিয়েছিল, তবে আদালত ১৮ দিনের হেফাজত মঞ্জুর করেছে।
পাক বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক তাহাউর রানা মুম্বই হামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত। ভারত দীর্ঘদিন ধরে তার প্রত্যর্পণের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। চলতি বছরের শুরুতেই আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট রানাকে ভারতে প্রত্যর্পণের অনুমতি দেয়। এর আগে ২০০৯ সালে শিকাগোয় এফবিআই তাকে গ্রেফতার করে। লস্কর-ই-তইবার জঙ্গি ডেভিড কোলম্যান হেডলির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগ ছিল তাহাউরের। লস্করকে সাহায্য করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। উল্লেখ্য, হেডলি ইতিমধ্যেই মুম্বই হামলার ঘটনায় আমেরিকায় ৩৫ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছে।
ভারত ২০১৮ সালে প্রথমবার রানার প্রত্যর্পণের জন্য আবেদন করে। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর গত ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে রানার ভারতে প্রত্যর্পণের ঘোষণাপত্র স্বাক্ষর করেন। রানা মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে এই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার উপর স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন জানালেও তা খারিজ হয়ে যায়। অবশেষে তার ভারতে বিচারের পথ প্রশস্ত হয়।
আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট রানার শেষ আইনি চ্যালেঞ্জ খারিজ করে দেওয়ার পরই তার ভারতে প্রত্যর্পণের ছাড়পত্র মেলে। ২০০৮ সালের ভয়াবহ মুম্বই হামলায় ১৬৬ জন নিরীহ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, যাদের মধ্যে ৬ জন মার্কিন নাগরিকও ছিলেন। এই হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত তাহাউরের বিচার এখন ভারতের বিশেষ এনআইএ আদালতে অনুষ্ঠিত হবে। এই গ্রেফতারি ও প্রত্যর্পণ ২৬/১১ হামলার শিকার ও তাদের পরিবারের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তি বয়ে আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।