“AI-এর গেরো!”-এক মাসে ৪৬,০০০ কর্মী ছাঁটাই, IT-র দুর্দিন কি তবে আসন্ন?

মধ্যবিত্তের স্বপ্নের আইটি সেক্টরে কি তবে দুর্যোগের মেঘ? মাত্র এক মাসের ব্যবধানে মেটা (Meta), ওরাকল (Oracle) এবং মাইক্রোসফট (Microsoft) মিলিয়ে প্রায় ৪৬,৭৫০ জন কর্মী কাজ হারিয়েছেন। একদিকে যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-তে এই সংস্থাগুলি জলের মতো টাকা ঢালছে, ঠিক তখনই হাজার হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করার এই সিদ্ধান্ত এক বিশাল প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিয়েছে— তবে কি রক্তমাংসের মানুষের জায়গা কেড়ে নিচ্ছে রোবট বা অ্যালগরিদম?

মেটা-র বড় কোপ: কাজ হারাচ্ছেন ৮০০০ কর্মী

সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে ফেসবুকের পেরেন্ট কোম্পানি Meta-র হাত ধরে। মার্ক জাকারবার্গের এই সংস্থা প্রায় ৮,০০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা তাদের মোট কর্মীবাহিনীর ১০ শতাংশ। সংস্থার লক্ষ্য স্পষ্ট— চলতি বছরে তারা AI-তে প্রায় ১৩৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। জাকারবার্গ আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ভবিষ্যতে অনেক কাজ এখনকার তুলনায় অনেক কম লোক দিয়ে করা সম্ভব হবে।

ওরাকলে কান্নার রোল: ইমেলে ছাঁটাইয়ের খবর!

সবচেয়ে বিতর্কিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে Oracle-এ। রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রায় ৩০,০০০ কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। অনেক কর্মীর অভিযোগ, কোনও আগাম সতর্কতা ছাড়াই সকালে হঠাৎ ইমেল পাঠিয়ে তাঁদের বিদায় জানানো হয়েছে। ৩৪ বছর ধরে কাজ করা কর্মী নিনা লুইস এই সিদ্ধান্তে স্তম্ভিত। অনেকেরই দাবি, কর্মদক্ষতা নয়, বরং যান্ত্রিক অ্যালগরিদমের ভিত্তিতে এই ছাঁটাই প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে।

মাইক্রোসফটের ‘স্বেচ্ছায় অবসর’ কৌশল

সরাসরি ছাঁটাইয়ের পথে না হাঁটলেও Microsoft তাদের প্রায় ৭ শতাংশ কর্মীকে (প্রায় ৮,৭৫০ জন) স্বেচ্ছায় অবসর নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। সংস্থার দাবি, তারা কর্মীদের নিজের শর্তে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিচ্ছে। তবে মুদ্রার উল্টো পিঠ হলো, সংস্থাটি একই সঙ্গে AI এবং ক্লাউড ইনফ্রাস্ট্রাকচারে বিনিয়োগ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?

তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি নতুন এবং বিপজ্জনক ট্রেন্ডের ইঙ্গিত। সংস্থাগুলি এখন ‘কম লোক, বেশি কাজ’—এই নীতিতে বিশ্বাসী হয়ে উঠছে। AI যত উন্নত হচ্ছে, ততই সাধারণ এবং পুনরাবৃত্তিমূলক কাজগুলো স্বয়ংক্রিয় হয়ে যাচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে আইটি সেক্টরে চাকরির ধরন ও নিরাপত্তা আমূল বদলে যেতে পারে।

প্রযুক্তির চরম উন্নতির এই যুগে একদিকে যখন উদ্ভাবনের জয়গান গাওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে তখন হাজার হাজার মধ্যবিত্ত পরিবারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে। টেক দুনিয়ার এই পালাবদল শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামে, সেটাই এখন দেখার।