“খাবার খাওয়ায় না, শৌচাগারেও না”-রেল দফতরের নির্দেশে ক্ষুব্ধ ট্রেনচালকেরা

কাজের সময় খাবার খাওয়া বা শৌচাগারে যাওয়ার জন্য বিরতির দীর্ঘদিনের দাবি অবশেষে নাকচ করে দিল ভারতীয় রেল। লোকো পাইলট অর্থাৎ ট্রেনচালকদের এই আবেদন রেলওয়ে বোর্ডের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্যানেলের পরামর্শ মেনে খারিজ করা হয়েছে। ‘দি হিন্দু’-র এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্যানেলের যুক্তি, রেলওয়ের স্বাভাবিক কাজকর্মের ক্ষেত্রে এই ধরনের বিরতির ব্যবস্থা করলে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে একাধিক ট্রেন দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে চালকদের বিশ্রামের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, রেলওয়ে বোর্ডের এই সিদ্ধান্ত কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। বোর্ডের দাবি, খাওয়া-দাওয়া ও শৌচাগারের জন্য বিরতি দিলে তা ট্রেন চলাচলের সূচি এবং সামগ্রিক অপারেশনের জন্য সঠিক হবে না।
চালকের কেবিনে রেকর্ডিং:
অন্যদিকে, লোকোমোটিভ কেবিন অর্থাৎ ট্রেন চালকের কেবিনে ককপিট ভয়েস ও ভিডিও রেকর্ডিং সিস্টেম (CVVRS) বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলওয়ে বোর্ড এবং এর পক্ষে যুক্তিও দিয়েছে তারা। যদিও এই পদক্ষেপ ট্রেনচালকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন করবে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে রেল বোর্ডের যুক্তি, এর মাধ্যমে চালকদের উপর নজরদারি করা হবে না। বরং, কোনো দুর্ঘটনার পরে তার কারণ বিশ্লেষণ এবং ট্রেনের নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্যই এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিবাদে ট্রেন চালকদের সংগঠন:
অল ইন্ডিয়া লোকো রানিং স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন রেল বোর্ডের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আসল সমস্যাটি না বুঝে এই অবাস্তব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, ট্রেনের গতিবেগ বৃদ্ধি পাওয়ায় চালকদের উপর মানসিক চাপ ক্রমশ বাড়ছে। তার উপর লোকোমোটিভে শৌচাগারের ব্যবস্থা না থাকায়, কাজের সময় বিরতি না দিলে তা মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। সংগঠনের নেতারা আরও উল্লেখ করেছেন যে, অনেক সুপারফাস্ট ট্রেন একটানা ৬-৭ ঘণ্টা চলে এবং এত দীর্ঘ সময় ধরে একটানা ট্রেন চালানো অত্যন্ত কষ্টকর। বিশেষ করে মহিলা ট্রেন চালকদের জন্য এই বিষয়টি আরও বেশি সমস্যার সৃষ্টি করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
রেলওয়ে বোর্ডের এই সিদ্ধান্ত ট্রেন চালকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে এবং আগামী দিনে এই নিয়ে প্রতিবাদ আরও জোরালো হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।