মহাবীর জয়ন্তীর মঞ্চ থেকে ওয়াকফ আইন নিয়ে গর্জে উঠলেন মুখ্যমন্ত্রী, কি বললেন তিনি?

বুধবার মহাবীর জয়ন্তীর এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওয়াকফ আইন নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানালেন। সম্প্রতি সংসদে ওয়াকফ সংশোধনী বিল ২০২৫ পাস হয়েছে, যেখানে বিলের পক্ষে ২৮৮টি এবং বিপক্ষে ২৩২টি ভোট পড়ে। শাসক দলের সাংসদরা এই বিলটিকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংস্কারমূলক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে, দেশের মুসলিম সম্প্রদায় এই নতুন ওয়াকফ বিল নিয়ে মোটেই সন্তুষ্ট নয় এবং বিলের প্রতিবাদে বিভিন্ন স্থানে মুসলিমরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন।
এই পরিস্থিতিতে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ মহাবীর জয়ন্তীর অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে ওয়াকফ বিলের বিরুদ্ধে মুসলিমদের পাশে থাকার জোরালো বার্তা দিলেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘বাংলায় ওয়াকফ সংশোধনী আইন বাস্তবায়িত হবে না, দিদি সবার সাথে আছে…’।
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ওয়াকফ সম্পত্তি মুসলিমদের ধর্মীয় এবং জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য উৎসর্গীকৃত। নতুন সংশোধনী বিলে ওয়াকফ সম্পত্তির পরিচালনা এবং তত্ত্বাবধান সংক্রান্ত কিছু নতুন নিয়ম আনা হয়েছে, যা নিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, এই নতুন আইনের মাধ্যমে ওয়াকফ সম্পত্তির উপর নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে চলে যেতে পারে এবং এর স্বায়ত্তশাসন ক্ষুন্ন হতে পারে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ঘোষণা নিঃসন্দেহে রাজ্যের মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে স্বস্তি এনে দেবে। ওয়াকফ আইন নিয়ে তাঁর এই স্পষ্ট অবস্থান কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্য সরকারের সংঘাত আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে, মুখ্যমন্ত্রী এদিন দৃঢ়ভাবে মুসলিমদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করলেন এবং রাজ্যে এই আইন কার্যকর না করার বার্তা দিলেন।
উল্লেখ্য, এর আগেও বিভিন্ন ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রের নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন এবং রাজ্যের মানুষের স্বার্থ রক্ষার কথা বলেছেন। ওয়াকফ আইন নিয়ে তাঁর এই মন্তব্য সেই ধারাবাহিকতারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, কেন্দ্র এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয় এবং রাজ্য সরকার কীভাবে তাদের অবস্থান বজায় রাখে।