“দিদি আপনাদের সম্পত্তি রক্ষা করবে”-সংখ্যালঘুদের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা

ওয়াকফ সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে ফের সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার মহাবীর জয়ন্তী উপলক্ষে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা কষ্ট পেয়েছেন। আমাদের সম্পত্তি নেওয়ার অধিকার কারও নেই। বাংলায় বিভাজনের রাজনীতি হবে না। চিন্তা করবেন না, দিদি রয়েছে। দিদি আপনাদের সম্পত্তি রক্ষা করবে। বাংলায় এমন কিছু হবে না যার জন্য বিভাজনের সৃষ্টি হতে পারে। আপনারা সকলে একসঙ্গে বাঁচার অঙ্গীকার করুন। কোনও রাজনৈতিক উস্কানিতে পা দেবেন না। একতার জন্য লড়াই করুন।’
মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তা এমন এক সময়ে এল, যখন ওয়াকফ আইন প্রত্যাহারের দাবিতে মঙ্গলবার বিকেলে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মুর্শিদাবাদ জেলার রঘুনাথগঞ্জ। প্রতিবাদ মিছিলকে ঘিরে সেখানে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। এসডিপিও-র গাড়ি ভাঙচুর, গাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের দিকে ইট-পাটকেল ছোড়ার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই ২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের বয়স ২০ থেকে ২২ বছরের মধ্যে। ধৃতরা জঙ্গিপুর ও রঘুনাথগঞ্জের বাসিন্দা। সংঘর্ষে ১০-১২ জন পুলিশ কর্মী জখম হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৬ জন জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এছাড়া ৫-৭ জন বিক্ষোভকারীও আহত হয়ে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং নতুন করে যাতে আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে, সে জন্য রঘুনাথগঞ্জ ও সুতি থানা এলাকা জুড়ে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা (পুরোনো ১৪৪ ধারা) জারি করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। এর পাশাপাশি, আগামী শুক্রবার পর্যন্ত গোটা জঙ্গিপুর মহকুমা এলাকায় সমস্ত ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।
মুখ্যমন্ত্রীর এদিনের মন্তব্য এবং প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ ওয়াকফ আইন নিয়ে রাজ্যের সংবেদনশীল পরিস্থিতিকেই তুলে ধরছে। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী সংখ্যালঘুদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছেন, অন্যদিকে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে প্রশাসন। এখন দেখার বিষয়, এই পরিস্থিতিতে রাজ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকে কিনা।