“আমি বেঁচে থাকতে কোনও যোগ্যদের চাকরি কেড়ে নিতে দেব না”- জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা

এদিন নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে চাকরিহারাদের সঙ্গে বৈঠকে সিপিএমকে তীব্র আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের নাম উল্লেখ করে বলেন, “বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য কেন মামলা করলেন? আমি অনেক বিষয় জেনেও সিপিএম-এর কারও চাকরি কেড়ে নিইনি। আমি বেঁচে থাকতে কোনও যোগ্যদের চাকরি কেড়ে নিতে দেব না।”

মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণভাবে উঠে আসে যখন রাজ্যের প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মী সুপ্রিম কোর্টের রায়ে চাকরি হারিয়েছেন এবং সেই পরিস্থিতিতে তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন স্পষ্ট বার্তা দেন যে তিনি কোনওভাবেই যোগ্য প্রার্থীদের চাকরি হারাতে দেবেন না এবং এই বিষয়ে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের মামলা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী সম্ভবত ২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ এবং সেই সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়াগুলির দিকে ইঙ্গিত করেন। তিনি বোঝাতে চান যে, তাঁর সরকার কখনও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে কারও চাকরি কেড়ে নেয়নি, এমনকি সিপিএম-এর আমলের কোনও অনিয়মের ক্ষেত্রেও তিনি ব্যাপক ধরপাকড় করেননি।

অন্যদিকে, চাকরিহারাদের প্রতি সহানুভূতি দেখিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার তাঁদের সম্ভাব্য সকল প্রকার সাহায্য করবে। তবে, ঠিক কী ধরনের পদক্ষেপ সরকার নেবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। চাকরিহারা শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে সুস্পষ্ট আশ্বাস এবং দ্রুত সমাধানের পথ আশা করছেন।

মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য একদিকে যেমন সিপিএম-কে নিশানা করে রাজনৈতিক বার্তা দেয়, তেমনই চাকরিহারা যোগ্য প্রার্থীদের প্রতি তাঁর সরকারের সহানুভূতি ও সাহায্যের অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটায়। এখন দেখার বিষয়, সরকার বাস্তবে চাকরিহারাদের জন্য কী পদক্ষেপ নেয় এবং এই আইনি জটিলতার সমাধান কীভাবে করে।