“রাজ্যকে জ্বালিয়ে দিতে পারি”-কর্মহীন হয়ে হুঁশিয়ারি চাকরি যাওয়া শিক্ষক-শিক্ষিকাদের

২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগ প্যানেল বাতিলের জেরে চাকরি হারানো শিক্ষক-শিক্ষিকারা এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, তাঁরাই ক্ষমতায় এনেছেন এবং প্রয়োজন হলে তাঁরাই নামাতেও পারবেন। শুধু তাই নয়, শান্তভাবে যেমন নিজেদের দাবি জানাতে পারেন, তেমনই প্রয়োজনে গোটা রাজ্যকে জ্বালিয়ে দেওয়ার মতো ক্ষমতাও রাখেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী যদি এটা ভুলে যান, তাহলে তিনি ভুল করছেন।
শনিবার দুপুরে মেদিনীপুর শহরের রাস্তায় চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকারা ফের বিক্ষোভ মিছিল করেন। শুক্রবারের মতোই এই মিছিলে বহু সংখ্যক চাকরিপ্রার্থী অংশ নেন। তবে এদিন তাঁদের প্রতিবাদী মিছিলে দেখা যায় পরিবারের ছোট বাচ্চাদেরও। বিক্ষোভকারীরা চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “যদি সসম্মানে আমাদের চাকরিতে ফেরত না নেওয়া হয়, তাহলে আমরা কাউকেই ভালো থাকতে দেব না। আমরা যেমন শান্তভাবে আমাদের কথা বলতে পারি, তেমনই প্রয়োজনে গোটা রাজ্যকে জ্বালিয়ে দিতেও পারি। আগামী ৭ এপ্রিল মুখ্যমন্ত্রী যে ললিপপ দেওয়ার জন্য ডেকেছেন, তাতে আমাদের বিন্দুমাত্র ভরসা নেই।”
আরেকজন বিক্ষোভকারী তাঁদের আর্থিক দুরবস্থার কথা তুলে ধরে বলেন, “ব্যাঙ্কের লোন নিয়ে আমি বাড়ি তৈরি করেছি। এখন চাকরি না থাকলে আমি লোনের কিস্তি কীভাবে শোধ করব? এর ফলস্বরূপ আমাকে আমার বাচ্চাটিকে নিয়ে পথে দাঁড়াতে হবে। তাই এখন থেকেই বাচ্চাকে নিয়ে রাস্তায় নামলাম।”
উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগের প্যানেল সম্পূর্ণ বাতিল হয়ে যাওয়ায় প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক, শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছে। এই আকস্মিক চাকরি হারানোর ধাক্কা সামলাতে না পেরে অনেকেই দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তাঁদের ভবিষ্যৎ এখন গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে। এমন পরিস্থিতিতে চাকরিহারা শিক্ষকদের এই ধরনের বিস্ফোরক মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। আগামী ৭ এপ্রিল মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের বৈঠক আদৌ কোনও সমাধান সূত্র বের করতে পারে কিনা, সেদিকেই এখন সকলের নজর। তবে বিক্ষোভকারীদের অনমনীয় মনোভাব এবং হুঁশিয়ারি পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।