“এটাই বড়লোক হওয়ার সময়”, মার্কিন শেয়ার বাজারে ধস নামতেই ‘বেফাঁস’ মন্তব্য ট্রাম্পের

নিজের দেশকে ‘আবার মহান’ বানানোর প্রচেষ্টায় এবার আর্থিক ঝুঁকির মুখে ফেললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্বের ৫৭টি দেশের ওপর শুল্ক চাপিয়ে তিনি মার্কিন বাজারে একপ্রকার অর্থনৈতিক বিস্ফোরণ ঘটালেন। এর ফলে, টানা দ্বিতীয় দিনে আমেরিকার শেয়ার বাজারে ধস। শুধু বৃহস্পতিবার নয়, শুক্রবারও রক্তপাত থামেনি মার্কিন স্টকে।

এই বিপর্যয়ের মাঝেই ট্রাম্পের অদ্ভুত মন্তব্য—“এটাই বড়লোক হওয়ার সময়”। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “আমার শুল্ক নীতি বদলাবে না।” তাঁর যুক্তি, বিদেশি সংস্থাগুলি আমেরিকায় রফতানি করার পরিবর্তে এখন দেশের মাটিতেই কারখানা বসাবে, ফলে কর্মসংস্থান বাড়বে, বাড়বে আর্থিক প্রবাহ।

ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে বাজারের প্রতিক্রিয়া একেবারেই মেলে না। ৪ এপ্রিল ডাও জোনস সূচক ২২৩১.০৭ পয়েন্ট পড়ে যায়। তার আগের দিন, ৩ এপ্রিল, পতন ছিল ১৬৭৯ পয়েন্ট। পাশাপাশি,S&P 500 সূচক কমেছে ৫.৯৭%,ডাও জোনস ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ পড়েছে ৫.৫%,নাসডাক কম্পোজিট হারিয়েছে ৫.৮২%।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের একতরফা শুল্ক কৌশল বিশ্ব অর্থনীতির উপর চাপ বাড়াচ্ছে। তার ফলেই মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

শুধু শেয়ার নয়, পতনের ধাক্কা খেয়েছে প্রযুক্তি খাত, অপরিশোধিত তেলের দাম, এমনকি সোনার মতো নিরাপদ বিনিয়োগ ক্ষেত্রও। ক্ষতির মুখে পড়েছে আমেরিকার ছোট ব্যবসাগুলিও। বাজারে ফিরে এসেছে বাণিজ্য যুদ্ধের আতঙ্ক, যা বিনিয়োগকারীদের মনোভাবকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।

গোল্ডম্যান শ্যাকসের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী,মার্কিন মন্দার সম্ভাবনা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ শতাংশে (আগে ছিল ২০ শতাংশ)।জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে আনা হয়েছে ২ শতাংশ থেকে ১.৫ শতাংশে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, শুল্কের মার ও স্পষ্ট নীতির অভাব মার্কিন অর্থনীতিকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই নীতিতে গরিব-মধ্যবিত্ত মার্কিন পরিবারগুলির জীবনযাত্রার খরচ বাড়বে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ট্রাম্প যখন প্রথম ক্ষমতায় আসেন, তখন মার্কিন বাজারে উত্তেজনা ছিল, ব্যবসার আশায় ফুলে উঠেছিল স্টক মার্কেট। কিন্তু এখন সেই বাজারে ছড়িয়েছে মন্দার কালো ছায়া। ওয়াল স্ট্রিট কাঁপছে, আর সাধারণ আমেরিকানদের কপালে চিন্তার ভাঁজ।

ট্রাম্পের শুল্ক যুদ্ধ আপাতত তার দেশকেই রক্তাক্ত করছে। আমেরিকাকে ‘আবার মহান’ বানাতে গিয়ে অর্থনীতির ভিত নাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। এখন দেখার, এই নীতির কী দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে মার্কিন জনগণের উপর এবং বিশ্ববাজারে।