কাঁদতে কাঁদতে স্কুল ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন ১১ জন স্যার! কার কাছে পড়ব? মনমরা হয়ে বললেন পড়ুয়ারা

গতকাল সকাল সকাল সাড়ে ১০টা। সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায় তখন টিভির পর্দায়। ঠিক সেই সময়েই দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলির জামতলা ভগবান চন্দ্র হাই স্কুলে যেন বাজ পড়ে। একে একে খবর আসে—স্কুলের ১১ জন শিক্ষকের চাকরি বাতিল হয়েছে। মুহূর্তেই যেন স্তব্ধ হয়ে যায় গোটা স্কুল চত্বর।
শিক্ষক-শিক্ষিকারা কান্নায় ভেঙে পড়েন। কেউ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রধান শিক্ষক শান্তনু ঘোষালের কথায়, “কাঁদতে কাঁদতে স্কুল ছেড়ে বেরিয়ে গেছেন তাঁরা। রায় নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। কিন্তু ভবিষ্যতে কীভাবে এই স্কুল চলবে, তা ভেবেই আতঙ্ক লাগছে।”
এই ১১ জনের মধ্যে বেশির ভাগই বিজ্ঞান ও অঙ্কের শিক্ষক। তাঁদের উপর ভরসা করেই গত তিন বছর ধরে চলছে স্কুলে সায়েন্স বিভাগ। এখন সেই ভিত্তি এক ঝটকায় হারিয়ে যাওয়ায় তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা।
স্কুলে চলছে পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণির পরীক্ষা। ঠিক এমন সময়েই এই ধাক্কা। প্রায় ৩,৫০০ ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করে এই স্কুলে। প্রত্যন্ত কুলতলির মতো এলাকায় এমনিতেই শিক্ষার পরিকাঠামো সীমিত। সেখানে অভিজ্ঞ ও যোগ্য শিক্ষকদের এক ঝটকায় হারিয়ে স্কুলের ভবিষ্যত নিয়ে দুশ্চিন্তা আরও প্রকট।
ছাত্রী তমান্না ঢালি কাঁদতে কাঁদতেই বলছে, “১১ জন স্যারের চাকরি চলে গেছে। এখন আমরা কার কাছে পড়ব? খুব অসুবিধা হবে।”
প্রধান শিক্ষকের মতে, “এই শিক্ষক-শিক্ষিকারা সকলেই যোগ্য ও দক্ষ ছিলেন। ছাত্রছাত্রীদের জন্য প্রাণ দিয়ে কাজ করেছেন এতদিন। এমন পরিণতি মানতে পারছি না।”
এই ঘটনাটি শুধু কুলতলি বা জামতলা স্কুল নয়, গোটা রাজ্যের বহু স্কুলে একইরকম সঙ্কট তৈরি করেছে। সুপ্রিম কোর্টের রায় যে কত পরিবার আর শিক্ষার ভবিষ্যতকে নড়িয়ে দিয়েছে, তার এক প্রতিচ্ছবি এই স্কুল।