“নন্দীগ্রামে অযোধ্যা ধাঁচের রাম মন্দির নির্মাণ হবে”-বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দীগ্রামে অযোধ্যার রাম মন্দিরের আদলে একটি বিশাল রাম মন্দির নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা এবং বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ৬ এপ্রিল, ২০২৫, রামনবমীর শুভ দিনে নন্দীগ্রামের সোনাচূড়ায় এই মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে।

বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী জানান, প্রায় ১.৫ একর জমির উপর এই মন্দিরটি নির্মিত হবে এবং এর স্থাপত্যশৈলী অযোধ্যার নবনির্মিত রাম মন্দিরের অনুকরণে তৈরি করা হবে। শুধু তাই নয়, মন্দির কমপ্লেক্সের মধ্যে একটি গোশালা, আয়ুষ স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং অতিথিশালাও স্থাপন করা হবে। শুভেন্দু অধিকারী আরও উল্লেখ করেন, এই মন্দিরটি নির্মিত হলে তা পশ্চিমবঙ্গের বৃহত্তম রাম মন্দির হবে এবং এটি রাজ্যের কোটি কোটি ধর্মপ্রাণ হিন্দুদের ভগবান রামের প্রতি অগাধ ভক্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হবে।

তবে, শুভেন্দু অধিকারীর এই মন্দির নির্মাণের ঘোষণাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ অভিযোগ তুলেছেন যে, যেখানে এই মন্দিরটি নির্মাণ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে, সেই জমি আসলে শহীদ পরিবারের স্মরণে একটি হাসপাতাল তৈরির জন্য শুভেন্দু অধিকারী কম দামে কিনেছিলেন। কুণাল ঘোষ বলেন, “তিনি (শুভেন্দু অধিকারী) যে কোনও জায়গায় রাম মন্দির তৈরি করতে পারেন, আমরা এর বিরুদ্ধে নই। কিন্তু যে জমি গুলিবিদ্ধদের নিকটাত্মীয়দের জন্য হাসপাতাল তৈরির উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছিল, সেখানে রাম মন্দির তৈরি করা কি তাঁদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ নয়?”

উল্লেখ্য, নন্দীগ্রামে এই মন্দির নির্মাণের ঘোষণা এমন এক সময়ে এল, যখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পূর্ব মেদিনীপুর জেলার দিঘায় একটি নবনির্মিত জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দিঘার এই জগন্নাথ মন্দিরটি আগামী ৩০ এপ্রিল, অক্ষয় তৃতীয়ার শুভ দিনে উদ্বোধন করা হবে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, নন্দীগ্রামে ইতিমধ্যেই ১৮০৩ সালে নির্মিত একটি শতাব্দী প্রাচীন জানকীনাথ মন্দির বিদ্যমান, যা পশ্চিমবঙ্গের প্রাচীনতম রাম মন্দিরগুলির মধ্যে অন্যতম বলে মনে করা হয়।

এই নতুন রাম মন্দির নির্মাণের পরিকল্পনা নিঃসন্দেহে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যেখানে ধর্মীয় স্থাপত্য এবং রাজনৈতিক কৌশল ক্রমশ একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে, সেখানে নন্দীগ্রামে এই রাম মন্দির নির্মাণের উদ্যোগ আগামী দিনে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।