বুধেই পেশ হবে Waqf Bill, উত্তপ্ত হতে পারে লোকসভা! প্রস্তুত বিরোধীরা, হুইপ জারি BJP-র

আজ গোটা দেশের নজর লোকসভার অধিবেশনের দিকে। আজ, বুধবার, কেন্দ্রীয় সরকার লোকসভায় ওয়াকফ সংশোধনী বিল পেশ করবে। এই বিল নিয়ে মোট ৮ ঘণ্টা আলোচনা হওয়ার কথা। বিরোধীদের ‘ইন্ডিয়া’ ব্লক একজোট হয়ে এই বিলের বিরোধিতায় নেমেছে, অন্যদিকে, বিল পাশ করাতে মরিয়া বিজেপি সাংসদদের জন্য হুইপ জারি করেছে।
ওয়াকফ বিল নিয়ে আজ লোকসভায় উত্তপ্ত পরিস্থিতির ইঙ্গিত আগেই মিলেছে। মঙ্গলবার লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা বিজনেস অ্যাডভাইসরি কমিটির (BAC) বৈঠক ডাকেন। সেখানে বিরোধীরা ১২ ঘণ্টার আলোচনার দাবি জানায়, তবে সরকার পক্ষ ৪ ঘণ্টার পক্ষে থাকে। এছাড়াও, আধার কার্ডের এপিক নম্বর, মণিপুর ইস্যু নিয়ে আলোচনার দাবি জানালেও তা মানা হয়নি বলে অভিযোগ বিরোধীদের। সেই কারণে, তারা বৈঠক থেকে ওয়াক আউট করে।
কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, আজই (বুধবার) লোকসভায় ওয়াকফ বিল নিয়ে ৮ ঘণ্টার আলোচনা হবে। এই পরিস্থিতিতে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে বৈঠক হয়। দীর্ঘদিন পর কংগ্রেসের ডাকা বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। সিদ্ধান্ত হয়েছে, বিরোধীরা একসঙ্গে বিলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে। তৃণমূলও স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা বিলের বিপক্ষে ভোট দেবে। কংগ্রেস তাদের সাংসদদের জন্য হুইপ জারি করেছে, যাতে শুধু আজ নয়, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারও তারা সংসদে উপস্থিত থাকেন।
ওয়াকফ বিল পাশ করাতে বিজেপিও কড়া অবস্থান নিয়েছে। লোকসভায় তাদের সব সাংসদকে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়ে হুইপ জারি করা হয়েছে। সংবাদ সংস্থা ANI জানিয়েছে, রাজ্যসভাতেও বৃহস্পতিবার বিজেপি তাদের সাংসদদের উপস্থিত থাকতে বলেছে। তবে এনডিএ শরিক দলগুলোর মধ্যে কেউ কেউ এই বিলের সমর্থন করবে কি না, তা নিয়ে জল্পনা চলছিল। এরপরই নীতীশ কুমারের জনতা দল ইউনাইটেড (JDU) জানিয়ে দেয় যে তারা ওয়াকফ সংশোধনী বিল সমর্থন করবে।
এই পরিস্থিতিতে লোকসভায় উত্তপ্ত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, যদি আজ বিল পাশ হয়, তবে আগামীকালই তা রাজ্যসভায় তোলা হতে পারে। সেই কারণেই বিজেপি বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় সাংসদদের উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
সংসদের বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব শেষ হবে ৪ এপ্রিল। তার আগেই সরকার লোকসভা ও রাজ্যসভায় ওয়াকফ বিল পাশ করাতে চায়। সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু ইঙ্গিত দিয়েছেন, ৪ এপ্রিলের মধ্যে বিল পাশ না হলে, প্রয়োজনে বাজেট অধিবেশনের মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে।
এদিকে, দিল্লি পুলিশ রাজধানীর নিরাপত্তা আরও জোরদার করেছে। স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে একজন অফিসার জানিয়েছেন।