“সব দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি নিলাম”-ফেসবুকে পোস্ট করে বিস্ফোরক BJP বিধায়ক

রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে আলিপুরদুয়ার জেলা বিজেপিতে ফের বড়সড় ধাক্কা। দলের অভ্যন্তরে ‘চাটুকারিতা’ এবং ‘ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ’ করার অভিযোগ তুলে কুমারগ্রামের বিজেপি বিধায়ক মনোজ কুমার ওরাওঁ দলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্ফোরক পোস্ট করে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।
মনোজ কুমার ওরাওঁ তার ফেসবুক পোস্টে দলের কয়েকজন নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি লেখেন, ‘শুভেন্দু অধিকারী ও দিলীপ ঘোষ বাংলায় পরিবর্তন আনতে জান প্রাণ লাগিয়ে দিচ্ছন। কয়েকজন নেতৃত্ব ব্যাক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করতে উঠে পরে লেগেছে। কিন্তু কয়েকজন সাধারণ কর্মীদের ভাবাবেগে আঘাত করে ও তাদের পছন্দের বিরুদ্ধে চাটুকারিকেই প্রধান্য দিচ্ছে। আলিপুরদুয়ার জেলায় নির্বাচনে দলের রেজাল্ট খারাপ হলে এর দায় তাদেরই নিতে হবে। এই পরিবেশে দলের কোন দায়িত্বে থাকতে পারছি না। তাই সব দলীয় পদ থেকে অব্যহতি নিলাম। একজন সাধারণ কর্মী হিসাবে বিজেপিতে থাকব।’
বছর ঘুরতে না ঘুরতেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে দলের বিধায়কের এই প্রকাশ্য ক্ষোভ গেরুয়া শিবিরের জন্য বড় অস্বস্তি তৈরি করেছে।
এর আগেও দলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন গঙ্গারামপুরের বিজেপি বিধায়ক সত্যেন্দ্র নাথ রায়। এমনকি হলদিয়ার বিধায়ক তাপসী মণ্ডল বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। সেই ঘটনাগুলি নিয়েও যথেষ্ট অস্বস্তিতে পড়েছিল বিজেপি। যদিও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছিলেন, এতে দলে কোনো প্রভাব পড়বে না এবং তিনি তাপসীর দলবদলের বিষয়ে আগে থেকেই অবগত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, আলিপুরদুয়ারে মোট ৫টি বিধানসভা আসন রয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি এই সবকটি আসনে জয়লাভ করেছিল। তবে পরবর্তীতে আলিপুরদুয়ারের জয়ী বিজেপি বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলাল তৃণমূলে যোগ দেন। এছাড়াও, আরেক বিধায়ক মনোজ টিগ্গা লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে দলের আরেক বিধায়ক মনোজ কুমার ওরাওঁ দলের একাংশের বিরুদ্ধে মুখ খোলায় বিজেপির অন্তর্কলহ আরও প্রকট হল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এর কী প্রভাব পড়ে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।