“পুলিশের পক্ষে সব সময় দেখা সম্ভব নয়””-সচেতন থাকতে বললেন ADG সুপ্রতিম সরকার

দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমার ঢোলাহাটে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় বাজি কারখানার মালিক চন্দ্রকান্ত বণিক ও তার ভাই তুষার বণিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলনে এ তথ্য জানান এডিজি দক্ষিণবঙ্গ সুপ্রতিম সরকার ও ডিআইজি প্রেসিডেন্সি রেঞ্জ আকাশ মাগারিয়া। এডিজি দক্ষিণবঙ্গ সুপ্রতিম সরকার আটজনের মর্মান্তিক মৃত্যুর জন্য নজরদারি ও সচেতনতার অভাবকেই দায়ী করেছেন। একইসঙ্গে তিনি জানান, এই বাজির ব্যবসা বৈধ ছিল নাকি অবৈধ, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সোমবার রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ পর পর বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে ঢোলাহাটের রায়পুর এলাকা। স্থানীয় বাসিন্দা চন্দ্রকান্ত বণিকের বাড়িতে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাস্থলেই চার শিশুসহ সাতজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত একজনকে কলকাতায় এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করানো হলে মঙ্গলবার সকালে তারও মৃত্যু হয়।

নিহতরা হলেন তুষার ও চন্দ্রকান্ত বণিকের বাবা অরবিন্দ বণিক (৬৫), ঠাকুমা প্রভাবতী বণিক (৮০), চন্দ্রকান্তের দুই সন্তান অর্ণব বণিক (৯) ও আট মাস বয়সী অস্মিতা বণিক, তুষারের দুই সন্তান ছয় বছর বয়সী অনুষ্কা বণিক ও ছয় মাস বয়সী অঙ্কিত বণিক, চন্দ্রকান্তের স্ত্রী সান্ত্বনা বণিক (২৮) এবং তুষারের স্ত্রী সুতপা বণিক। ঘটনার সময় চন্দ্রকান্ত, তুষার এবং তাদের মা বাড়িতে না থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।

এদিন সুপ্রতিম সরকার জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে প্রায় ১০ বছর ধরে এই বাজি কারখানা চলছিল। এমনকি ২০২২ সালে চন্দ্রকান্ত বণিককে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল এবং তার কাছ থেকে ৬৮.৫ কেজি বাজি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। প্রশ্ন উঠছে, যার এমন পুরনো রেকর্ড রয়েছে, তার কাছে বাজি তৈরির বৈধ লাইসেন্স ছিল কিনা, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ডিআইজি দক্ষিণবঙ্গ আকাশ মাগারিয়া জানান, যেহেতু প্রত্যক্ষদর্শীদের সকলেই মারা গিয়েছেন, তাই ঠিক কী কারণে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে, তা এই মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়। ফরেন্সিক রিপোর্ট হাতে এলে গোটা বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

পুলিশি নজরদারির অভাবের প্রসঙ্গে এডিজি সুপ্রতিম সরকার বলেন, “কেউ দাহ্য পদার্থের পাশে গ্যাস রেখে রান্না করলে তা পুলিশের পক্ষে সব সময় দেখা সম্ভব নয়। দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণেই এতগুলো প্রাণ চলে গেল। দাহ্য পদার্থ, শিশু, পরিবারের লোকজন—সবাইকে একসঙ্গে রেখে গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে রান্না করা কতটা বিপজ্জনক, তা নিয়ে পুলিশের পক্ষে রোজ বাড়ি বাড়ি গিয়ে বলা সম্ভব নয়। সচেতনতা জোর করে তৈরি করা যায় না।”

ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় স্থানীয় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গ্রামবাসীদের অনেকে সংবাদমাধ্যমে অভিযোগ করেছেন, কিছু পুলিশ নিয়মিত টাকা নিয়ে যেত। এই অভিযোগের বিষয়ে সুপ্রতিম সরকার বলেন, “যে কেউ অভিযোগ করতে পারেন। তবে লিখিত, মৌখিক বা অন্য কোনোভাবে অভিযোগ এলে, নিশ্চয়ই তার সত্যতা যাচাই করে দেখা হবে। অভিযোগ মানেই তা খতিয়ে দেখার বিষয়।”