মায়ানমারের রেশ না কাটতেই ফের ভূমিকম্প, কেঁপে উঠল লাদাখের লেহ অঞ্চল

মঙ্গলবার বিকেলে কেঁপে উঠল লাদাখের লেহ অঞ্চল। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি-র রিপোর্ট অনুযায়ী, বিকেল ৫টা ৩৮ মিনিটে রিখটার স্কেলে ৪.২ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে ভূবিজ্ঞানীরা সাম্প্রতিক সময়ে এই অঞ্চলে ঘন ঘন ভূমিকম্পের প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

মায়ানমারের ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সাগাইং ফল্ট:

সম্প্রতি মায়ানমারে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার ভয়াবহ চিত্র ইতিমধ্যেই সকলের সামনে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভূমিকম্পের মূল কারণ হল ‘সাগাইং ফল্ট’। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বিপজ্জনক এই ফল্ট লাইনটি দীর্ঘদিন ধরেই বিজ্ঞানীদের নজরে রয়েছে। আইআইটি কানপুরের আর্থ সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক জাভেদ মালিক জানিয়েছেন, সাগাইং ফল্টে প্রতি ১৫০-২০০ বছর অন্তর বড় ধরনের ভূমিকম্পের ইতিহাস রয়েছে। চিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মায়ানমারের সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৭.৯।

ভারতের আশেপাশে সক্রিয় ফল্টের উপস্থিতি:

অধ্যাপক জাভেদ মালিক আরও উল্লেখ করেছেন যে, ভারতের আশেপাশেও একাধিক সক্রিয় ফল্ট বিদ্যমান। শিলিগুড়িতে ‘Ganges-Bengal’ নামে একটি ফল্ট রয়েছে, যা ভবিষ্যতে ভূমিকম্পের উৎস হতে পারে। এছাড়াও ডাউকি, কোপলি এবং ডিব্রুচৌতাং ফল্ট জোনও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, মায়ানমারের ভূমিকম্প সাগাইং ফল্টের পাশাপাশি Ganges-Bengal ফল্টকেও সক্রিয় করে তুলতে পারে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

ভূমিকম্পের গভীরতা ও ক্ষতির সম্ভাবনা:

ভূমিকম্প কতটা ক্ষতি করবে, তা মূলত তার গভীরতা ও অবস্থানের উপর নির্ভর করে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। সাধারণত ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০০-১৫০ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্প হলে ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম থাকে। তবে ৫-২০ কিলোমিটারের মধ্যে অগভীর ভূমিকম্প সংঘটিত হলে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে।

জোন-৫ অঞ্চলে নজরদারি প্রয়োজন:

অধ্যাপক জাভেদ মালিকের মতে, উত্তর-পূর্ব ভারত এবং কাশ্মীর ‘জোন-৫’ এর অন্তর্ভুক্ত, যা ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। শুধুমাত্র প্লেট টেকটোনিক মুভমেন্টের উপর নজর না রেখে এই অঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থিত ফল্ট লাইনগুলির উপরও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালানো জরুরি। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, একটি ভূমিকম্প অন্য একটি ভূমিকম্পকে ‘ট্রিগার’ করতে পারে, যাকে ‘ট্রিগার স্ট্রেস’ বলা হয়। লেহের আজকের ভূমিকম্প সেই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

লাদাখের লেহতে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পের পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। যদিও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি, তবে মায়ানমারের সাম্প্রতিক ভূমিকম্প এবং ভারতের আশেপাশে সক্রিয় ফল্টগুলির উপস্থিতি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলগুলিতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন ভূবিজ্ঞানীরা।