বিশেষ: পৃথিবী আসলে কি সুপারনোভা কবরস্থান, জেনেনিন কী বলছে মহাকাশ বিজ্ঞানীরা?

বিজ্ঞানীরা সমুদ্রের তলদেশে এক বিশাল কিলোনোভার জীবাশ্ম আবিষ্কার করেছেন, যা প্রায় ১০ লাখ বছর আগের বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিলোনোভা হলো দুটি বাইনারি নিউট্রন নক্ষত্রের একে অপরের সাথে সর্পিল আকারে সংঘর্ষের ফল। এই মহাজাগতিক সংঘর্ষে বিপুল পরিমাণে ভারী উপাদান মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে। আমাদের চাঁদের পৃষ্ঠেও কিলোনোভার বহু নমুনা বিদ্যমান।

সুপারম্যাসিভ নক্ষত্রের অন্তিম পর্যায়ে সুপারনোভা তৈরি হয়। এই সময় মহাকাশে প্রচুর ভারী উপাদান নির্গত হওয়ার কারণে তার কিছু অংশ পৃথিবীতেও এসে পৌঁছায়। সম্প্রতি, যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আরবানা-চ্যাম্পেইনের জ্যোতির্বিজ্ঞানী ব্রায়ান ফিল্ডস ও তার দল গভীর সমুদ্র থেকে তেজস্ক্রিয় প্লুটোনিয়াম আইসোটোপের চিহ্ন আবিষ্কার করেছেন। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই চিহ্ন আসলে একটি সুদূর অতীতের কিলোনোভার অংশ। দুটি নিউট্রন তারার সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট এই উপাদানের বয়স আনুমানিক ১০ লাখ বছর। সেই সময় মহাকাশে এক বিশাল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞানী ব্রায়ান ফিল্ডস এই বছরের আমেরিকান ফিজিক্যাল সোসাইটি গ্লোবাল ফিজিকস সামিটে এই আবিষ্কারের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমরা একটি সুপারনোভার কবরস্থানে বাস করি।” গত কয়েক দশক ধরে তিনি পৃথিবী ও চাঁদ উভয়ের মহাজাগতিক ধ্বংসাবশেষ বিশ্লেষণ করছেন। এর আগে বিজ্ঞানীরা ৩০ লাখ ও ৪ লাখ বছর আগের সুপারনোভার বর্জ্য খুঁজে পেয়েছিলেন এবং সেখান থেকেও প্লুটোনিয়ামের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল।

যেসব নক্ষত্রের জীবন সুপারনোভা বিস্ফোরণের মাধ্যমে শেষ হয়, তাদের সমস্ত হাইড্রোজেন হিলিয়ামের সাথে নিঃশেষ হয়ে যায়। যখন তাদের হিলিয়ামও শেষ হয়ে আসে, তখন তারা লোহায় পরিণত না হওয়া পর্যন্ত ক্রমশ ভারী উপাদানে মিশ্রিত হতে থাকে। সেই সময়, যদি নিউট্রন নক্ষত্র কোনো বাইনারি সিস্টেমে একে অপরকে প্রদক্ষিণ করতে থাকে, তবে তারা পরস্পর ঘূর্ণায়মান অবস্থায় সংঘর্ষের মুখে পতিত হয়। এই সংঘর্ষের ফলে আরও ভারী পদার্থ মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে। ধারণা করা হয়, এভাবেই পৃথিবী সোনা, প্ল্যাটিনাম, থোরিয়াম এবং অন্যান্য ভারী উপাদান লাভ করেছে। একই প্রক্রিয়ায় প্লুটোনিয়ামও ধীরে ধীরে সমুদ্রের তলদেশে জমা হয়েছে।

এই আবিষ্কার মহাবিশ্বের ভারী উপাদান তৈরির প্রক্রিয়া এবং অতীতের মহাজাগতিক ঘটনা সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

সূত্র: পপুলার মেকানিকস