আজ আরও মৃত্যু পাথরপ্রতিমায়, ছড়িয়ে ছিটিয়ে মানুষের দেহাংশ, ভয়াবহ পরিস্থিতি?

বাংলা কি সত্যিই বারুদের স্তূপের উপর দাঁড়িয়ে? একের পর এক বাজি কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনা এবং তাতে মৃত্যুর মিছিল সেই প্রশ্নকেই আরও জোরালো করে তুলছে। সোমবার রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমার ঢোলাহাটে যে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে, তা শুধু মর্মান্তিকই নয়, রাজ্যের গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে থাকা আরও কত বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে আঙুল তুলেছে। মঙ্গলবার ভোরে আরও একটি মৃত্যুর খবর আসায়, এই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে আট।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ যদিও দাবি করছেন, এটি সিলিন্ডার বিস্ফোরণ। তবে পাথরপ্রতিমার এই ভয়াবহ ঘটনা ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারকে তীব্র সমালোচনার মুখে ফেলেছে। বিজেপির মতো বিরোধী দলগুলি সরব হয়েছে সরকারের বিরুদ্ধে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, কেন রাজ্য সরকার তাজা বোমার স্তূপের উপর বসে শাসন চালাচ্ছে? তাঁদের স্পষ্ট দাবি, এটি বাজি কারখানা নয়, আসলে বোমা তৈরির একটি অবৈধ ঘাঁটি ছিল।
পাথরপ্রতিমায় ঠিক কী ঘটেছিল?
সোমবার রাতের ভয়াবহ বিস্ফোরণে একটি পরিবারের আটজন সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ঢোলাহাটের বণিক পরিবারের বাড়িতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। মৃতদের মধ্যে একই পরিবারের তিনটি শিশুও রয়েছে।
বণিক পরিবারে মোট সদস্য ছিলেন ১১ জন। চন্দ্রকান্ত বণিক এবং তুষার বণিক দুই ভাই। এই দুর্ঘটনায় তাঁদের বাবা অরবিন্দ বণিক (৬৫), ঠাকুমা প্রভাবতী বণিক (৮০), চন্দ্রকান্তের স্ত্রী সান্তনা বণিক (২৮), তাঁদের দুই সন্তান অর্ণব বণিক (৯) ও আট মাসের অস্মিতা বণিক এবং তুষারের দুই সন্তান ছয় বছরের অনুষ্কা বণিক ও ছয় মাসের অঙ্কিত বণিকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে তুষারের স্ত্রীরও মৃত্যু হয়। পরিবারের তিনজন সদস্য ঘটনার সময় বাড়ির বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন।
এদিন সকালেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে ফরেন্সিক দল। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূর থেকেও সেই শব্দ শোনা গিয়েছে। উড়ে গিয়েছে বাড়ির ছাদ। তীব্র বিস্ফোরণে ঘরের আসবাবপত্র ছিটকে গিয়ে পাশের মাঠে পড়েছে। জানলার গ্রিল-সহ দেওয়ালের অংশ উড়ে গিয়ে পড়েছে অন্য এলাকায়। তিনটি শিশুর দেহ বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
অবৈধ বাজি কারখানা নাকি সিলিন্ডার বিস্ফোরণ?
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বণিকদের ওই বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধভাবে বাজি তৈরির কারখানা চলছিল। এমনকি বাজির আড়ালে সেখানে বোমাও তৈরি করা হত কিনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এলাকার মানুষের দাবি, প্রায় আট-দশ বছর ধরে দুই ভাই এই অবৈধ ব্যবসা চালাচ্ছিলেন এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন সবকিছু জানত। ঘটনার পর থেকে দুই ভাই পলাতক।
যদিও পাথরপ্রতিমার তৃণমূল বিধায়ক সমীর জানার দাবি, তিনি স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর নিয়ে জেনেছেন যে, বাড়িতে গ্যাসের সিলিন্ডার রাখা ছিল। সম্ভবত আগুন লাগার পরে সেই সিলিন্ডার ফেটেই এই ভয়াবহ শব্দ হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ এবং বিস্ফোরণের তীব্রতা অন্য সম্ভাবনার দিকেই ইঙ্গিত করছে। এখন দেখার, তদন্তে আসল সত্য উঠে আসে কিনা এবং রাজ্য সরকার এই ধরনের অবৈধ কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয় কিনা।