Google Map-থেকেও গায়েব! আমেরিকার এই ‘রহস্যময়’ শহরে ঢোকা মানা, জেনেনিন কেন?

বর্তমান ডিজিটাল যুগে যখন পৃথিবীর যেকোনো অলিগলি আপনার ফোনের স্ক্রিনে বন্দি, ঠিক তখনই আমেরিকার মিনেসোটায় অস্তিত্ব রয়েছে এমন এক শহরের—যা গত ২০ বছর ধরে গুগল ম্যাপের ‘স্ট্রিট ভিউ’ থেকে নিজেকে আড়াল করে রেখেছে। শহরটির নাম ‘নর্থ ওকস’ (North Oaks)। এটি কোনো সাধারণ জনপদ নয়, বরং এক দুর্ভেদ্য ও অতি-বিলাসবহুল এলাকা, যেখানে প্রবেশাধিকার পাওয়া যেন চাঁদে যাওয়ার মতোই কঠিন।
কেন ম্যাপে নেই এই শহর? মিনিয়াপোলিস থেকে মাত্র ১৫ মাইল দূরে অবস্থিত এই শহরটি নিজের গোপনীয়তা বজায় রাখতে এক অদ্ভুত আইনি কৌশল ব্যবহার করে। এখানকার প্রতিটি বাড়ির মালিকানা চুক্তিতে একটি বিশেষ নিয়ম আছে—প্রতিটি বাসিন্দার সম্পত্তির সীমানা রাস্তার অর্ধেক পর্যন্ত বিস্তৃত। অর্থাৎ, পুরো শহরের রাস্তাঘাট আইনিভাবে ‘ব্যক্তিগত জমি’। ২০০৮ সালে গুগল যখন এখানে স্ট্রিট ভিউয়ের ছবি তোলার চেষ্টা করে, তখন শহরের তৎকালীন মেয়র টমাস ওয়াটসন সরাসরি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়ে গুগলকে পিছু হটতে বাধ্য করেন।
ইউটিউবারের দুঃসাহসী অভিযান: কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ক্রিস পার এই শহরের রহস্য উন্মোচনে এক অভিনব পন্থা নেন। তিনি সরাসরি শহরের ভেতর ঢুকতে না পেরে সীমানার বাইরে থেকে ড্রোন উড়িয়ে আকাশপথে এলাকাটির ম্যাপ তৈরি করেন। এরপর ‘ক্রেইগসলিস্ট’-এ বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে এক বাসিন্দাকে ১০ ডলার দিয়ে রাজি করিয়ে অবশেষে শহরের ভেতরে ঢোকার অনুমতি পান।
ভেতরে কী দেখলেন তিনি? ক্রিস পারের ভিডিওতে দেখা গেছে, নর্থ ওকস কোনো সাধারণ শহর নয়, বরং রূপকথার মতো প্রাসাদসম সব বাড়ি আর পরিপাটি তুষারাবৃত রাস্তায় ভরা এক জগত। প্রতিটি বাড়ির লন এবং বাগান এতটাই সুন্দর যে মনে হবে কোনো সিনেমার সেট। জনপ্রিয় আবাসন সাইট ‘জিলো’র তথ্যমতে, এখানকার কিছু বাড়ির দাম প্রায় ২৯ লক্ষ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২৪ কোটি টাকা) পর্যন্ত।
কারা থাকেন সেখানে? শোনা যায়, মিনেসোটার বড় বড় কোম্পানির সিইও এবং উচ্চপদস্থ নির্বাহীরা এখানে বসবাস করেন। এলএ চার্জার্স-এর জো অল্ট এখানে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়াল্টার মেন্ডেলও এখানে সম্পত্তির মালিক ছিলেন।
বিশ্বের অন্যান্য ‘ব্ল্যাক স্পট’: পুরো বিশ্বে নর্থ ওকসের মতো আড়ালে থাকা জায়গা খুব কমই আছে। উত্তর কোরিয়া বা চীনের কিছু দুর্গম এলাকা ম্যাপে দেখা যায় না ঠিকই, কিন্তু আমেরিকার মতো উন্নত দেশে ‘এরিয়া ৫১’-এর বাইরে এমন ব্যক্তিগত শহরের অস্তিত্ব থাকা সত্যিই বিরল।
গুগল বা নর্থ ওকসের বর্তমান মেয়র এই বিষয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করেননি, তবে ক্রিস পারের এই ভিডিও এখন ইন্টারনেটে ভাইরাল।