যখন মেয়ের মুখে ‘কাকু’ ডাক শুনেছিলেন সঞ্জয় দত্ত, আজও সেই কষ্ট ভোলেননি অভিনেতা

সঞ্জয় দত্ত, যাঁর জীবন বিতর্ক আর সম্পর্কের ওঠাপড়ায় ভরা। বহু নারীর আনাগোনা দেখা গিয়েছে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে। তবে জানেন কি, একসময় তাঁকেও গভীর কষ্ট পেতে হয়েছিল? নিজের মেয়ের মুখ থেকে ‘বাবা’ নয়, ‘কাকু’ ডাক শুনতে হয়েছিল এই জনপ্রিয় অভিনেতাকে। সেই স্মৃতি আজও তাঁর হৃদয়ে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে।
ঘটনাটি নব্বই দশকের গোড়ার দিকে। ১৯৮৭ সালে অভিনেত্রী রিচা শর্মাকে দেখেই গভীর প্রেমে পড়েন সঞ্জয়। একটি সিনেমার সেটে প্রথম দেখা হওয়ার পরই রিচাকে জীবনসঙ্গিনী হিসেবে স্থির করে ফেলেন তিনি। রিচার বাবা-মা নিউ ইয়র্কের বাসিন্দা হলেও, সঞ্জয়ের সঙ্গে সংসার করার জন্য তিনি নিউ ইয়র্ক ছেড়ে ভারতে পাকাপাকিভাবে থাকতে শুরু করেন। তাঁদের একটি কন্যাসন্তানও হয়, নাম ত্রিশলা। সবকিছু বেশ ভালোই চলছিল। কিন্তু হঠাৎই নেমে আসে দুর্যোগ। মস্তিষ্কের ক্যানসারে আক্রান্ত হন রিচা শর্মা।
এখানেই শেষ নয়, ১৯৯৩ সালের মুম্বই হামলায় সঞ্জয় দত্তের নাম জড়িয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। অভিনেতাকে ঘন ঘন আদালতে হাজিরা দিতে হত। অন্যদিকে, রিচার শারীরিক অবস্থার ক্রমশ অবনতি হতে থাকে এবং চিকিৎসার জন্য তিনি নিউ ইয়র্ক চলে যান। রিচার বাবা-মায়ের অভিযোগ ছিল, ব্যক্তিগত জীবনে এত অস্থিরতার কারণে সঞ্জয় রিচার যথাযথ খেয়াল রাখতে পারছেন না। একদিকে রিচার বিদেশে চিকিৎসা চলছিল, অন্যদিকে সঞ্জয়ের দিন কাটছিল ভারতীয় আদালতে। শুধু তাই নয়, সেই সময় অভিনেত্রী মাধুরী দীক্ষিতের সঙ্গেও সঞ্জয়ের সম্পর্কের গুঞ্জন শোনা যায়, যা রিচার কানে পৌঁছলে তাঁদের সম্পর্কের বাঁধন আরও দুর্বল হতে শুরু করে।
ত্রিশলা তখন মায়ের সঙ্গেই বিদেশে থাকত। পরবর্তীকালে এক সাক্ষাৎকারে সঞ্জয় দত্ত জানান, মেয়ের সঙ্গে দেখা করার জন্য তিনি ইউরোপে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর ত্রিশলা তাঁকে চিনতে পারেনি। বাবাকে ‘বাবা’ না ডেকে ‘আঙ্কল’ বলে ডেকে ওঠে! এই ঘটনা সঞ্জয়ের মনে গভীর দাগ কাটে। তাঁর কথায়, “আমি যদি নাও থাকি, রিচার উচিত ছিল আমাদের বাচ্চাটার মনে অন্তত বাবার পরিচয়টা জীবন্ত রাখা।” সঞ্জয় রিচার বাবা-মাকেই তাঁদের সম্পর্কের ভাঙনের জন্য দায়ী করেন। রিচা শেষ পর্যন্ত ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইয়ে পরাজিত হন। তাঁর মৃত্যুর পর সঞ্জয় মেয়ের কাস্টডি চাইলেও তা পাননি। ত্রিশলা বিদেশে তাঁর দাদু-দিদার কাছেই বড় হন। এরপর বহু বছর কেটে গেছে। আজ যদিও পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে এবং মেয়ের সঙ্গে সঞ্জয়ের সম্পর্কেরও অনেক উন্নতি হয়েছে। তবে সেই ছোট্ট ত্রিশলার ‘কাকু’ ডাক আজও সঞ্জয় দত্তের মনে এক গভীর কষ্টের স্মৃতি হিসেবে রয়ে গেছে।