আইপিএলের কালো অধ্যায়, গড়াপেটা থেকে নির্বাসন, এক নজরে বিতর্কিত ক্রিকেটাররা

আইপিএল মানেই ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এক চূড়ান্ত রোমাঞ্চের প্যাকেজ। বিনোদনের মোড়কে বাইশ গজের লড়াই ইতিমধ্যেই ১৭টি সফল বছর পার করে ১৮তম বর্ষে পদার্পণ করেছে। গুণগত মান এবং উৎকর্ষের নিরিখে এই কোটিপতি লিগ বিশ্বের অন্যতম সেরা ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগের স্বীকৃতি পেয়েছে। তবে, সাফল্যের শিখরে পৌঁছানোর পাশাপাশি গত ১৭টি মরশুমে বহু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও দেখেছে আইপিএল। স্পট ফিক্সিংয়ের মতো কালো ছায়াও এই জনপ্রিয় টুর্নামেন্টের গায়ে লেগেছে।
ঠিক তেমনই, বিভিন্ন সময়ে নিয়ম ভঙ্গের কারণে বেশ কিছু ক্রিকেটারকে নির্বাসিতও হতে হয়েছে। এই তালিকায় যেমন রয়েছেন হরভজন সিংয়ের মতো প্রাক্তন ভারতীয় তারকা, তেমনই নাম রয়েছে বেশ কিছু বিদেশি ক্রিকেটারেরও। আসুন, এক নজরে দেখে নেওয়া যাক আইপিএলের ইতিহাসে কোন কোন ক্রিকেটার নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছেন এবং তার পেছনের কারণগুলো কী ছিল:
প্রবীণ তাম্বে: ২০১৩ সালে আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে অভিষেক করা প্রবীণ তাম্বে ২০১৯ সালে এই টুর্নামেন্ট থেকে নির্বাসিত হয়েছিলেন। কলকাতা নাইট রাইডার্স সেই মরশুমে তাকে দলে নিলেও, ২০১৮ সালে অনুমতি ছাড়া বিদেশের একটি টি-১০ লিগে অংশ নেওয়ায় এই ডানহাতি লেগস্পিনারকে নিষিদ্ধ করা হয়। আইপিএলের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো সক্রিয় ক্রিকেটার বোর্ডের অনুমতি ব্যতীত অন্য কোনো বিদেশি লিগে অংশগ্রহণ করতে পারেন না।
স্টিভ স্মিথ: ‘স্যান্ডপেপার গেট’ কেলেঙ্কারির জেরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নির্বাসিত হওয়া স্টিভ স্মিথ ২০১৮ সালের আইপিএল থেকেও নিষিদ্ধ হয়েছিলেন। সেই বছর রাজস্থান রয়্যালসের অধিনায়ক হওয়ার কথা থাকলেও, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সিদ্ধান্তের পর আইপিএল কর্তৃপক্ষও এই অজি তারকাকে নিষিদ্ধ করে।
লুক পমার্সব্যাচ: রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের হয়ে খেলার সময় ২০১২ সালের আইপিএল থেকে নির্বাসিত হয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার এই ক্রিকেটার। হোটেল রুমে এক মার্কিন তরুণী ও তার সঙ্গীকে হেনস্তার অভিযোগ ওঠে পমার্সব্যাচের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় দিল্লি পুলিশ তাকে গ্রেফতারও করে। ফলস্বরূপ, সেই মরশুমের বাকি সময়ের জন্য তাকে আইপিএল থেকে নিষিদ্ধ করা হয়।
রবীন্দ্র জাদেজা: ২০১২ সাল থেকে চেন্নাই সুপার কিংসের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও, আইপিএলের প্রথম দুটি মরশুম রবীন্দ্র জাদেজা রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে খেলেছিলেন। ২০০৯ মরশুম শুরুর আগে এই বাঁ-হাতি অলরাউন্ডার টুর্নামেন্টের নিয়ম ভেঙে অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন এবং রাজস্থানের সঙ্গে দর কষাকষি করেন। বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি আইপিএল কর্তৃপক্ষ। নিয়ম ভঙ্গের শাস্তিস্বরূপ ২০০৯ সালের আইপিএলে তাকে নিষিদ্ধ করা হয়।
হরভজন সিং: আইপিএলের প্রথম আসরেই নিষিদ্ধ হয়েছিলেন তারকা ভারতীয় স্পিনার হরভজন সিং। সে সময় তিনি মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের সদস্য ছিলেন। কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের (বর্তমানে পাঞ্জাব কিংস) বোলার শান্তাকুমারন শ্রীসন্থকে চড় মারার অপরাধে প্রথমে তাকে সাসপেন্ড করা হয় এবং পরবর্তীতে আইপিএলের বাকি মরশুমের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়।
ডেভিড ওয়ার্নার: স্টিভ স্মিথের সঙ্গে ‘স্যান্ডপেপার গেট’ কাণ্ডে জড়িয়েছিলেন বিধ্বংসী অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে নির্বাসিত হওয়ার পর সানরাইজার্স হায়দরাবাদের এই ক্রিকেটারকেও ২০১৮ সালের আইপিএলে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
মহম্মদ আসিফ: আইপিএলের অভিষেক মরশুমে গ্লেন ম্যাকগ্রার সঙ্গে জুটি বেঁধে দিল্লির হয়ে দারুণ সাড়া ফেলেছিলেন পাকিস্তানের এই পেসার। ক্রিকেট বিশ্বে একসময় পরিচিত নাম মহম্মদ আসিফ পরের আইপিএল মরশুমেই নিষিদ্ধ ওষুধ সেবন করে ধরা পড়েন এবং তাকে ব্যান করা হয়। ফলস্বরূপ, দিল্লির সঙ্গে তার চুক্তি বাতিল হয়। পরবর্তীতে মুম্বাই হামলার কারণে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের আইপিএলে অংশগ্রহণের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হলে আর এই টুর্নামেন্টে দেখা যায়নি আসিফকে।
হ্যারি ব্রুক: আইপিএল কর্তৃপক্ষ ২০২৫ সংস্করণের আগে একটি নতুন নিয়ম চালু করেছে। এই নিয়ম অনুযায়ী, নিলামে বিক্রি হওয়ার পরেও যদি কোনো ক্রিকেটার আইপিএল থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেন, তবে তাকে দুই মরশুমের জন্য নিষিদ্ধ করা হবে। ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যান হ্যারি ব্রুককে ২০২৫ সালের আইপিএলে ৬.২৫ কোটি টাকায় দলে নিয়েছিল দিল্লি ক্যাপিটালস। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ব্রুক নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ায় আগামী দুটি মরশুমের জন্য তিনি নিষিদ্ধ হতে চলেছেন।
আইপিএলের ইতিহাসে এই ঘটনাগুলি বারবার মনে করিয়ে দেয় যে মাঠের বাইরের আচরণ এবং নিয়মনীতি মেনে চলা খেলোয়াড়দের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। কোটি কোটি দর্শকের আবেগের এই মঞ্চে কোনো রকম বিতর্ক বা নিয়ম লঙ্ঘন কাম্য নয়।