মিয়ানমারে ৩০ ঘণ্টা পর ধ্বংসস্তূপ থেকে মহিলাকে জীবিত উদ্ধার, বড় সাফল্য উদ্ধার কর্মীদের

মিয়ানমারে শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হানার প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়ে ধসে পড়া একটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকের ধ্বংসস্তূপ থেকে এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবারের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর এই অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকটি ধসে পড়ে এবং ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে অন্তত ৯০ জন আটকে ছিলেন।
বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকটি ধসে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। দীর্ঘ ৩০ ঘণ্টা নিরলস চেষ্টার পর অবশেষে উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে ওই নারীকে জীবিত অবস্থায় বের করে আনতে সক্ষম হন।
উদ্ধারের পরপরই ওই নারীকে স্ট্রেচারে তোলা হয়। এএফপির ছবিতে দেখা যায়, ওই সময় তার স্বামী আবেগাপ্লুত হয়ে তাকে জড়িয়ে ধরেন। এরপর দ্রুত তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যাওয়া ওই নারীর স্বামী উদ্ধারকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “শুরুতে আমি ভাবিনি সে বেঁচে থাকবে। এমন ভালো সংবাদ শুনতে পেয়ে আমি সত্যিই খুব খুশি।”
এদিকে, ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে মিয়ানমারে মৃতের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এখনও বহু মানুষ ধসে পড়া ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, মিয়ানমারের এই ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার থেকে এক লাখ পর্যন্ত হতে পারে।
অন্যদিকে, এই ভয়াবহ ভূমিকম্পের প্রভাব পড়েছে প্রতিবেশী থাইল্যান্ডেও। সেখানে নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবন ধসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। থাইল্যান্ডে এখন পর্যন্ত ১১ জন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
মিয়ানমারে উদ্ধার অভিযান এখনও जारी রয়েছে এবং জীবিতদের সন্ধানে উদ্ধারকর্মীরা আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসছে। ভূমিকম্পের ব্যাপকতা এবং দুর্গম এলাকা হওয়ার কারণে উদ্ধার কার্যক্রমে নানা বাধা আসছে। আন্তর্জাতিক সাহায্য এবং উদ্ধারকারী দলগুলোও মিয়ানমারের এই কঠিন সময়ে পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: বিবিসি