বন্ধ ফ্ল্যাটে পড়ে রক্তাক্ত যুবক, ‘অজ্ঞাত পরিচয়’ কে ঢুকেছিল ঘরে? তদন্তে নামলো পুলিশ

শনিবার সন্ধ্যায় চাঞ্চল্য ছড়াল চারু মার্কেট থানার দেশপ্রাণ শাসমল রোডে। একটি পাঁচ তলা আবাসনের বন্ধ ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হল ২২ বছর বয়সী এক যুবকের মৃতদেহ। মৃতের নাম অবিনাশ বাউরি। গলায় ও মুখে আঘাতের চিহ্ন পাওয়ায় প্রাথমিক তদন্তে খুনের সম্ভাবনা দেখছে পুলিশ। রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন কলকাতা পুলিশের হোমিসাইড শাখার আধিকারিকরা এবং তদন্ত শুরু করেন।

লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত অবিনাশ ওই ফ্ল্যাটে পরিচারকের কাজ করতেন। তাঁর বাড়ি আসানসোলে। কয়েক বছর আগে আসানসোলের বাসিন্দা কুশল ছাবড়া কাজের জন্য অবিনাশকে কলকাতায় নিয়ে আসেন। এরপর থেকে অবিনাশ দেশপ্রাণ শাসমল রোডের এই ফ্ল্যাটেই থাকতেন।

ঘটনার দিন কুশলের ছেলে ও স্ত্রী কয়েকদিনের জন্য আসানসোলে গিয়েছিলেন। কুশল কলকাতাতেই ছিলেন। শনিবার সকালে কাজে বেরোনোর পর তিনি আর অবিনাশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। পুলিশ সূত্রে খবর, দুপুর ৩টে পর্যন্ত ফোনে বারবার চেষ্টা করেও অবিনাশের সাড়া না পাওয়ায় কুশল তার গাড়ির চালককে ফোন করেন এবং ফ্ল্যাটে গিয়ে খোঁজ নিতে বলেন।

গাড়ির চালক ফ্ল্যাটে পৌঁছে বারবার কলিং বেল বাজালেও ভিতর থেকে কোনো সাড়া পাননি। ফ্ল্যাটের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ ছিল। এরপর চালক থানায় খবর দেন। চারু মার্কেট থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে দরজা ভেঙে অচৈতন্য অবস্থায় অবিনাশকে উদ্ধার করে। তড়িঘড়ি এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছে, শনিবার দুপুরে অজ্ঞাত পরিচয় এক ব্যক্তি ওই ফ্ল্যাটে এসেছিলেন। পুলিশ এখন সেই ব্যক্তির পরিচয় জানার চেষ্টা করছে। তদন্তকারীদের মতে, এই তথ্য মামলার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশ ইতিমধ্যেই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা শুরু করেছে। পাশাপাশি, ফ্ল্যাট থেকে কোনো মূল্যবান জিনিস খোয়া গিয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

কলকাতা পুলিশের অপরাধ দমন শাখার যুগ্ম কমিশনার রূপেশ কুমার এই ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে খুনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। সেই কারণে হোমিসাইড শাখাকে এই ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’

অবিনাশের মৃত্যুর খবর ইতিমধ্যেই তাঁর আসানসোলের বাড়িতে জানানো হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের আজ কলকাতায় আসার কথা রয়েছে। পুলিশ তাদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার আরও বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করবে। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।